নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে দলটির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৯ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন পণ্ড হয়ে গেছে। মারামারিতে পাঁচ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় উপজেলার জয়াগ মহাবিদ্যালয় শিক্ষক মিলনায়তনে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- জয়াগ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাফিজ তানবির, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন বাবু ও জয়াগ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি রাব্বিসহ পাঁচ জন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জয়াগ মহাবিদ্যালয়ের হলরুমে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টায় সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের ও সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাবুল বাবু জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সূচনা করেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় সম্মেলনস্থলে আসেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীম, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিন ও সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান সমন্বয়ক ফুয়াদ হোসেন। এরপর তারা সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ না করে জয়াগ মহাবিদ্যালয় শিক্ষক মিলনায়তনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে শিক্ষক মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা প্রবেশ করে অতিথিদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তখন সম্মেলনে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি আসার আগে পতাকা উত্তোলন করার কারণ জানতে চাইলে, দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে দুই পক্ষের লোকজন শিক্ষক মিলনায়তন থেকে বের হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পাঁচ জন আহত হন।
সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের পাঁচ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীম দাবি করেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে সম্মেলন স্থগিত হয়নি। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উদ্বোধন করেন। সে হিসেবে তিনি সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন। এটাতে অসুবিধা নেই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোথাও বাধা নেই। সম্মেলন হয়েছে, যারা গণ্ডগোল করেছে তারা চলে গেছে, কাউন্সিলররা যায়নি।
সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের বলেন, ব্যালটের সিরিয়ালে সমস্যা থাকায় সম্মেলন আমরা নিজেরাই স্থগিত করেছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার ক্ষমতা হলো আমার। ইব্রাহীম সাব, জাহাঙ্গীর সাব, রুহুল আমিন সাব কিসের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে? জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
সোনাইমুড়ী থানার ওসি হারুন অর রশীদ বলেন, সম্মেলনে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমস্যা হয়েছিল। পুলিশ তাত্ক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।