চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, ‘এই নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। আগ্রাবাদ, গোসাইলডাঙ্গা ও হালিশহর এলাকা এমনিতেই নিচু এলাকা, জোয়ারে সময় এসব এলাকা ডুবে যায়। বর্ষা মৌসুমে অতিমাত্রায় বৃষ্টি হলে জোয়ার ও বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে তীব্র জলজটের সৃষ্টি হয়। জলজটের কারণে জনসাধারণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।’
তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া, প্রকল্পের কাজের স্বার্থে খাল ও নালায় অস্থায়ী বাঁধের মাটি উত্তোলন না করায় ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছে না নগরবাসী।’
বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডের হাজী মোখলেসুর রহমান রোড সংলগ্ন মহেশ খালের ওপর নির্মিতব্য সেতুর উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে আগ্রাবাদ ও দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক গুদাম। ভোগান্তি থেকে মুক্তির জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মেগা প্রকল্পের ৩৬টি খালের বাইরে নগরীতে আরও ২১টি খাল রয়েছে। এই খালগুলো পুনরুদ্ধার জরুরি। ইতোমধ্যে খাল উদ্ধার ও সংস্কারে ডিপিপি প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করেছি আমরা।’
সিটি মেয়র আরও বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে নগরীর উন্নয়নে চসিক, সিডিএ ও চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সব সেবা সংস্থাকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। সমন্বিত কাজের মাধ্যমে নগরবাসী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে জোয়ারের পানির প্রবেশ পথে স্থায়ী বাঁধ দিতে হবে।’
গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোরশেদ আলীর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র আফরোজা কালাম, কাউন্সিলর জাফরুল হায়দার সবুজ, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফেরদৌসী আকবর, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, মনিরুল হুদা ও নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ।