সংসারের হাল ধরতে সৌদি গিয়ে লাশ হলেন জাহাঙ্গীর

অভাব-অনটনের সংসারে হাল ধরতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ফেনীর সোনাগাজীর জাহাঙ্গীর আলম (২৬)। তার আয়েই পরিবার চলতো। জাহাঙ্গীরকে বিয়ে করানোর স্বপ্ন দেখতেন তার মা ও ভাই। কিন্তু বিয়ের আগেই কর্মস্থল মক্কায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার খবর আসে বাড়িতে।

জাহাঙ্গীর সোনাগাজীর চর দরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চর সাহাভিকারী গ্রামের মো. ইলিয়াছের ছেলে। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। জেদ্দায় এক ব্যক্তির গাড়িচালক ছিলেন তিনি।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীরের বড় চার ভাই বিয়ে করেছেন। এর মধ্যে তিন ভাই আলাদা সংসার করছেন। চতুর্থ ভাই জামশেদ আলম ও জাহাঙ্গীর তার বৃদ্ধ মাকে সঙ্গে নিয়ে থাকতেন। জামশেদ বিয়ে করেছেন। তিনি বাড়িতে মায়ের দেখাশোনা করেন। চার বছর আগে সংসারের অভাব দূর করতে সৌদি আরব যান জাহাঙ্গীর। এরপর তার টাকাতেই চলতো সংসার। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় সংসারের কর্মঠ ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা।

জাহাঙ্গীরের মা আতরের নেছা বলেন, 'শনিবার দুপুরে ছেলে জেদ্দা থেকে মক্কার দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় ছেলের সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়। পথে অপর একটি গাড়ির ধাক্কায় ছেলে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে মারা যায়। ছোট ছেলেটাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। সে আয় করে খাওয়াতো। ভেবেছিলাম আগামী বছর দেশে এনে বিয়ে করাবো। তার আগেই এভাবে চলে গেলো। কোনওভাবেই সইতে পারছি না।'

জামশেদ আলম বলেন, সৌদি আরব থেকে জাহাঙ্গীরের লাশ দেশে ফেরত আনা নিয়ে আমরা চিন্তিত। কীভাবে কী করবো, বুঝে উঠতে পারছি না। এমন পরিস্থিতিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করছি।

উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীর আলম সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ওই দেশে থাকা তাদের এলাকার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কীভাবে তার লাশ দেশে আনা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।