প্রাইভেট কারে ঘুরে ঘুরে শহরে ডাকাতি করতো তারা

চট্টগ্রাম মহানগরে প্রাইভেট কারে ঘুরে ডাকাতিতে জড়িত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাতে নগরের কোতোয়ালি থানার পলোগ্রাউন্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতার পাঁচ জন হলেন- দেলোয়ার হোসেন (২১), সাজ্জাদ হোসেন (২৪), ফরহাদ ওরফে দিদার (২৪), আসিফ হোসেন (২১) ও মাহফুজুর রহমান (২৩)। মঙ্গলবার বিকালে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ সময় প্রাইভেট কারের ভেতর থেকে একটি রামদা, একটি নাম্বার প্লেট, গাড়ির নাম্বার প্লেটের সংখ্যা পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত দুটি সংখ্যায় লেখা স্কচটেপ মোড়ানো কাগজের টুকরো, প্লাস্টিকের বাটযুক্ত একটি পুরাতন স্ক্রু ড্রাইভার, একটি নেভি ব্লু রঙয়ের ট্রাভেল ব্যাগ, একটি টিপ ছোরা, একটি ফোল্ডিং ছোরা, একটি ছিনতাই করা মোবাইল, একটি মানিব্যাগ এর ভেতর একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্ট কার্ড উদ্ধার করা হয়। পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতারে অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মেহেদী হাসান।

কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোতোয়ালি থানাধীন পলোগ্রাউন্ড থেকে টাইগারপাস মোড়গামী মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী সড়কে কতিপয় ডাকাত সদস্যরা একটি প্রাইভেট কার এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা গেলেও অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ব্যক্তি অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।

ওসি জানান, গ্রেফতার ডাকাতরা গত এক মাস ধরে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রাইভেট কার ও সিএনজি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ বুঝে রামদা, টিপ ছোরার ভয় দেখিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাই ও ডাকাতি করে যায় বলে জানায়। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য একেক সময় গাড়ির নম্বর প্লেটের ওপর দুটি সংখ্যা পরিবর্তন করে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো হাতে লেখা দুটি সংখ্যা লাগিয়ে দেয়। তারা সবাই সিআরবি থেকে টাইগারপাস, সেখান থেকে পলোগ্রাউন্ডমুখী পথচারী, টাইগারপাস থেকে সিআরবি কেন্দ্রিক যাতায়াতকারী গাড়ি ও পথচারীদের টার্গেট করে ছিনতাই ও ডাকাতি করতে একত্রিত হয়েছে বলে জানিয়েছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতার আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও নির্জন এলাকায় ডাকাতি সংঘটিত করে। ইতিপূর্বে তারা চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর, ডবলমুরিং, আকবরশাহ ও লালদিঘীর পাড় এলাকায় ছিনতাই করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।