৫ বছরে কুমিল্লা বোর্ডে জিপিএ-৫ বেড়েছে ১৫ গুণ, এগিয়ে মেয়েরা 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবার উচ্চমাধ্যমিকে পরীক্ষার্থী ও পাসের হার কমেছে। তবে বেড়েছে জিপিএ-৫। জিপিএ-৫ শুধু এ বছরই বাড়েনি, ২০১৮ সাল থেকে গত পাঁচ বছরে জিপিএ-৫ বেড়েছে ১৫ দশমিক ৮৮ গুণ। জিপিএ-৫ ও পাসে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন মেয়ে শিক্ষার্থীরা।

২০২২ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান বলছেন, দিন দিন শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে বেড়েছে মান। সামনে আরও ভালো ফল হবে।

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বোর্ডের পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনও শিক্ষার্থী পাস করেননি। শতভাগ পাস করেছেন ৩৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেন ৮৫ হাজার ৮৮০ জন। এর মধ্যে ৭৭ হাজার ৯০৭ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৯১ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৭২ শতাংশ।

২০২১ সালে বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ ১৪ হাজার ৫৫৯ জন। পাস করেছেন এক লাখ ১১ হাজার ৬৮০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৩ জন। পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

২০২০ সালে পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ দুই হাজার ৪৩৪ জন। পাস করেছেন এক লাখ দুই হাজার ৪৩৪ জন (শতভাগ অটো পাস)। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৬৪ জন। পাসের হার ছিল শতভাগ।

২০১৯ সালে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯৪ হাজার ৩৬০ জন। পাস করেছেন ৭৩ হাজার ৩৫৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুই হাজার ৩৭৫ জন। পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

২০১৮ সালে পরীক্ষায় অংশ নেন এক লাখ তিন হাজার ৬৬৬ জন। পাস করেন ৬৭ হাজার ৮২০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৪৪ জন। পাসের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।

ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, জিপিএ-৫ ও পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছেন মেয়েরা। বিজ্ঞান বিভাগে ১০ হাজার ৪৩৫ মেয়ে শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১০ হাজার ১৭ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন চার হাজার ৮০৫ জন। একই বিভাগে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ হাজার ৫১৯ জন। পাস করেন ৯ হাজার ৯১৮ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পান চার হাজার ১৬২ জন।

মানবিক বিভাগে ২৬ হাজার ৯১১ মেয়ে শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২৪ হাজার ৩৬ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুই হাজার ৮৬৪ জন। ওই বিভাগে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ হাজার ৬০৩ জন। পাস করেছেন ১১ হাজার ৫৬১ জন। পাসের হার ৮৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৭৯ জন।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১১ হাজার ৩৮৬ মেয়ে শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১০ হাজার ২৩৮ জন। পাসের হার ৯২ দশমিক ৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক হাজার ৬৩৮ জন। একই বিভাগে ছেলে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ হাজার ৪৩৮ জন। পাস করেছেন ১২ হাজার ১৩৭ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৪৩ জন।

মেয়েদের এগিয়ে থাকার বেশ কিছু কারণ রয়েছে উল্লেখ করে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা কলেজে যখন পরিদর্শনে যাই, তখন দেখি মেয়েদের উপস্থিতি অনেক বেশি। তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ভালো। সংখ্যার দিক থেকেও তারা এগিয়ে। কাজেই ফলে তাদের এগিয়ে থাকা স্বাভাবিক।’

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত বছর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এবার পাসের হার কমেছে ছয় দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত বার বিভাগভিত্তিক তিনটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার আইসিটি বাদে সব বিষয়ের ওপরই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আইসিটির নম্বর যুক্ত হয় ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে। এবার ৩৭টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। শতভাগ ফেল করেছে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানে একজন করে, একটি প্রতিষ্ঠানে সাত জন, একটিতে আট জন ও একটিতে ৯ জন পরীক্ষার্থী ছিল।

পাসের হারে এগিয়ে চাঁদপুর

কুমিল্লা ও নোয়াখালীর ছয় জেলা নিয়ে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। প্রাপ্ত ফলে পাসের হারে সবচেয়ে ভালো চাঁদপুর। এই জেলার পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ হাজার ৬১৪ জন। পাস করেছেন ১২ হাজার ৮৩৫ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা। এই জেলার পরীক্ষার্থী ৩০ হাজার ৪১১ জন। পাস করেছেন ২৮ হাজার ৫০৫ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। লক্ষ্মীপুরে পরীক্ষার্থী সাত হাজার ২০৯ জন। পাস করেছেন ছয় হাজার ৪২৭ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরীক্ষার্থী ১১ হাজার ৬৬৫ জন। পাস করেছেন ছয় হাজার ৫০৮ জন। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। নোয়াখালীতে পরীক্ষার্থী ১৪ হাজার ৪৭৭ জন। পাস করেছেন ১২ হাজার ৭২০ জন। পাসের হার ৮৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। পাসের হারে সবার নিচে ফেনী। এই জেলায় পরীক্ষার্থী আট হাজার ৫০৪ জন। পাস করেছেন সাত হাজার ৯৫ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ১৩ এবং কারাগারে থেকে পাস করেছেন একজন

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল নাছের বলেন, ‘কুমিল্লায় এবার ১৩ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে তিন জন। কারাগার থেকে পাস করেছে একজন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের মধ্যে সর্বোচ্চ চার জন কুমিল্লার।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডে আগের তুলনায় পরীক্ষার্থী কমেছে। দিন দিন শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে বেড়েছে মান। ফলে উন্নয়ন হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সামনে আরও ভালো ফল আসবে বলে প্রত্যাশা করছি।’