চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কদমরসুল এলাকার সীমা অক্সিজেন প্ল্যান্টে বিস্ফোরণে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা কেঁপে উঠেছে। ভূমিকম্পের মতো ওই এলাকার বিভিন্ন স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় একটি লোহার পাত আধা কিলোমিটার উড়ে গিয়ে শামসুল আলম (৬২) নামে একজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
শনিবার (৪ মার্চ) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের শ্যালক মো. আলাউদ্দীন বলেন, কদম রসুল বাজারের উত্তর পাশে লাকড়ির দোকানে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন শামসুল আলম। এ সময় বিস্ফোরণের পর অন্তত ২০০ থেকে আড়াইশ কেজি ওজনের লোহার পাত উড়ে এসে তার মাথার ওপর পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে বিস্ফোরণ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শামসুল আলম আমার ফুফাতো বোনের স্বামী। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি কদমরসুলের জাহানাবাদ এলাকায়। এক ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে শামসুল আলমের।
জানা গেছে, হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেঁপে ওঠে। ২/৩ কিলোমিটার দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি থাকা অনেক ভবন ও স্থাপনার কাচ ভেঙে গেছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে প্ল্যান্টটি। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয় জন নিহত হয়েছেন। দগ্ধ ও আহত ২২ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে কারও হাত কারও পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিরা নূর বলেন, ‘সীমা অক্সিজেন অক্সিকো কারখানায় অক্সিজেন বোতলজাত করা হয়। এই অক্সিজেনের সাহায্যে জাহাজ কাটা হয়। মূল কাটখানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত কারখানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজার হাজার অক্সিজেন সিলিন্ডার। বিস্ফোরণের মাত্রা এতই তীব্র ছিল যে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে উড়ে যাওয়া প্ল্যান্টের লোহার টুকরার আঘাতে আশপাশের বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কারখানা এলাকা। আশপাশের ভবনের কাচ ভেঙে গেছে।