চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সীমা অক্সিজেন কারখানায় বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে ১৭ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে। তাদের বেশিরভাগই কানে কম শুনছেন। কারও কারও চোখে দেখা দিয়েছে সমস্যা।
চট্টগ্রাম মেডিক্যালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে আশঙ্কাজনক একজনকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে। বাকি ১৬ জনের মধ্যে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে সাত জন, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে তিন জন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে দুই জন ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন চিকিৎসাধীন আছেন।
রবিবার (৫ মার্চ) রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিস্ফোরণে মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডের আবাসিক চিকিৎসক আদিফা আক্তার বলেন, ‘কারখানায় দুর্ঘটনায় আহত চিকিৎসাধীন রোগীদের কেউ কেউ কানে কম শুনছেন। কারও কারও চোখে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। অনেকে ট্রমার মধ্যে আছেন। তবে এ ওয়ার্ডে যারা আছেন তারা ঝুঁকিমুক্ত। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ড-২ এ গিয়ে দেখা গেছে, সীমা অক্সিজেন কারখানায় আহতদের সাতজনই চিকিৎসা নিচ্ছেন ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে।
দুই নম্বর ওয়ার্ডের ২৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আরাফাত আলম বলেন, ‘আমি কারখানায় স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে মেকানিকের কাজ করতাম। ২৪ বছর ধরে এ কারখানায় কাজ করছি। কখনও এত বড় ঘটনা ঘটেনি। তবে বিভিন্ন সময় ছোট-খাট সমস্যা ছিল। যেগুলো আমরা নিজেরাই সুরাহা করতে পারতাম।’
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় আমি কারখানার ভেতর ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণে আমার ওপর একটি লোহার পাত এসে পড়ে। এতে আমি জ্ঞান হারাই। জ্ঞান ফিরলে হাসপাতালে দেখতে পাই। আমি কানে কম শুনছি। চোখের মধ্যে জ্বালা করছে।’
আরাফাতের পাশের ২৩ নম্বর সিটে রয়েছে নারায়ণ ধর। তিনি ট্রাকচালক। অক্সিজেন সিলিন্ডার কারখানা থেকে রিফিলের পর নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিতেন তিনি। দুর্ঘটনার সময় তিনি কারখানায় ছিলেন। তবে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। তার চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
একই ওয়ার্ডে ২৭ নম্বর বেডে চিকিৎসা নিচ্ছেন মো. ফোরকান। তিনি বলেন, ‘আমি এ কারখানায় গ্যাস রিফিলের কাজ করতাম। দুর্ঘটনার সময় কারখানার সীমানার মধ্যে ছিলাম। তবে একটু দূরে ছিলাম। দুর্ঘটনার পর আমি কানে কম শুনছি। আজ নাক, কান গলা বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়েছি। ওষুধ দিয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত রয়েছে।’
২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আবদুল মোতালেব সীমা অক্সিজেনে কাজ করতেন রিফিলম্যান হিসেবে। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা এ কারখানায় আগে কখনও ঘটেনি। আমি মাথায় আঘাত পেয়েছি। ঘটনার পর থেকে আমি কানে কম শুনছি। এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছি।’
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসিক চিকিৎসক ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিস্ফোরণ বিকট শব্দে হয়েছে। এরপর থেকে অনেকেই কানে কম শুনছেন। বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আপাতত শরীরের বড় সমস্যা সারাতে চেষ্টা করছি।’
শনিবার (৪ মার্চ) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে সীমা অক্সিজেন কারখানায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পৃথক স্থানে থাকা দুই ব্যক্তির ওপর কারখানার লোহার পাত উড়ে গিয়ে মাথায় পড়ে মারা যান।