গত ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান (ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি) হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন আজিজুল হক রিন্টু (২৮)। এখনও প্রথম মাসের বেতনও হাতে পাননি। এর মধ্যে সোমবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম নগরের বিমানবন্দর সড়কের মেঘনা অয়েলের সামনে সিগন্যাল অমান্য করে রেললাইনে উঠে পড়া বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি। এরপর বাসটি রেলের ইঞ্জিনকে ধাক্কায় দিলে সেটও উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাসের দুই যাত্রীও।
আজিজুল হকের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদীয়া পাড়া। তিনি মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। তিন ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। চট্টগ্রামের গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের (সিজিপিওয়াই) অধীনে দায়িত্বে ছিলেন।
তার বড় ভাই আমিনুল হক রিন্টু জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থকে ইসলামিক স্ট্যাডিস বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পাস করে সরকারি চাকরিতে একাধিক ইন্টারভিউ দিয়েছিল। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল অনেক জায়গায়। মৌখিকে গিয়ে তার চাকরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত রেলওয়ের পয়েন্টসম্যানের চাকরি হয়। গত ১৮ জানুয়ারি চাকরিতে যোগদান করে।
চট্টগ্রামের হালিশহর গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের (সিজিপিওয়াই) স্টেশন মাস্টার আবদুল মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত আবদুল আজিজ এক মাস আগে চাকরিতে যোগদান করেন। তিনি অত্যন্ত ভদ্র-নম্র ছিলেন। চাকরিতে যোগ দিয়ে এখন পর্যন্ত বেতনও হাতে পাননি। কয়েকদিন পর তার প্রথম মাসের বেতন হতো। এর আগেই তিনি মারা গেছেন।’
দুর্ঘটনায় নিহত অপর দুজন হলেন- আসাদুজ্জামান (৩০) ও মিটন কান্তি দে (২৫)। আসাদুজ্জামান ও মিটন বাসের যাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, ১৫ ফেব্রুয়ারি গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই) তেলবাহী একটি ট্রেন প্রবেশের সময় ট্রেনের তিনটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়। পতেঙ্গা এলাকার পদ্মা, মেঘনা, যমুনা থেকে রেলওয়ের নিজস্ব পরিবহনে ডিজেল নিয়ে সিজিপিওয়াই প্রবেশের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ওয়াগনে প্রায় ৩০ হাজার লিটার করে ডিজেল ছিল। ওয়াগন থেকে পড়ে যাওয়া তেল খাল এবং নদীতে মিশেছে। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর দুর্ঘটনাকবলিত ওই ট্রেনের তিন ওয়াগন উদ্ধার করা সম্ভব হয়।