আখাউড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ৫ জন কারাগারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। রবিবার (২ এপ্রিল) বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠায়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংগ্যজাই মারমার নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পৌরসভার ব্যস্ততম সড়কে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল পার্কিং করায় সড়ক বাজার এলাকার সাতরং ফ্যাশনের মালিক সোহাগ মিয়াকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করাহয়। পরে আরও দুই মোটরসাইকেল মালিককে একই অভিযোগে অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে সোহাগ মিয়া নামে একজন ক্ষুব্ধ হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে তর্কে জড়ান। পেশাগত কাজে স্থানীয় সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিকাল ৪টার দিকে দৈনিক যায়যায় দিনের আখাউড়া প্রতিনিধি হান্নান খাদেম, বাংলাদেশ বুলেটিনের আখাউড়া প্রতিনিধি রুবেল আহমেদ এবং দেশ রূপান্তর ও মাইটিভির আখাউড়া প্রতিনিধি জালাল হোসেন মামুন ফল কেনার জন্য সড়ক বাজারে যান। এ সময় সাতরং ফ্যাশনের মালিক সোহাগ মিয়া ‌‘তোদের কারণে আমার জরিমানা হয়েছে’ বলেই সাত-আটজনকে নিয়ে সাংবাদিকদের মারধর শুরু করেন।

হামলায় সাংবাদিক রুবেল আহমেদ আহত হন। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের কাছ থেকে একটি ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। পরে বাজারের লোকজন এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের রক্ষা করেন।

হামলায় আহত রুবেল আহম্মেদ জানান, গতকাল অভিযানের পর বিকেলে আমরা তিনজন সাংবাদিক ফলের বাজার করতে যাই। পরে সকালে অভিযানের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাতরং ফ্যাশনের মালিক সোহাগ মিয়াসহ কয়েকজন আমাদের ওপর হামলা করে। পরে আমি রাতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আখাউড়া থানায় মামলা করি। আমি এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

পুলিশ অভিযুক্ত মেহেদী হাসান (২০), আপন ঘোষ (১৯), সোহাগ প্রকাশ শাওন (২১), আসাদ নূর (১৯) ও রুমান মিয়াসহ (১৯) ৫ জনকে গ্রেফতার করে। পরে রবিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মো. শফিুকল জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি সোহাগসহ পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।