ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ফাঁকা হয়ে গেছে। ঈদের আগের দিন সড়কটিতে যানবাহন কমে গেছে। এ অবস্থায় ঢাকা থেকে কুমিল্লায় যেতে দেড় থেকে পৌনে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগছে বলে জানালেন যাত্রী ও চালকরা।
মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু এবং মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু এলাকায় অন্যান্য বছর ঈদের সময় যানজট লাগলেও এবার লাগেনি। ফলে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষজন। শুক্রবার (২১ এপ্রিল) সকালে মহাসড়কে কিছু গাড়ির দেখা মিললেও দুপুরে তেমন ছিল না। বিকাল ৩টা পর্যন্ত মহাসড়ক ফাঁকা রয়েছে। মাঝেমধ্যে দুই-চারটা গাড়ি এদিক-সেদিক যাতায়াত করছে।
পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, দাউদকান্দি টোলপ্লাজা, ইলিয়টগঞ্জ বাজার, নিমসার বাজার, চান্দিনা বাজার ও চৌদ্দগ্রাম এলাকায় অন্যান্য বছর ঈদের সময় যানজট লাগলেও শুক্রবার এসব স্থান ফাঁকা দেখা গেছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সড়কে তেমন যানবাহন ছিল না। তবে বৃহস্পতিবার রাতে এসব স্থানে গাড়ির ধীরগতি ছিল।
ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় রয়েল কোচ পরিবহনে উঠে ১১টা ১০ মিনিটে কুমিল্লায় পৌঁছেছেন নগরীর বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন মিয়াজী। তিনি বলেন, ‘আগে ভোরে বাসে উঠতাম, কুমিল্লায় এসে বাস থামতো দুপুরে। দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো অন্তত দুই ঘণ্টা। আজ এক মিনিটে টোলপ্লাজা পার হয়েছি। বাজারগুলোতে গাড়ির গতি না কমলে দেড় ঘণ্টায় আসতে পারতাম।’
ঢাকা-কুমিল্লায় চলাচলকারী তিশা পরিবহনের চালক ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘১৩ বছর ধরে গাড়ি চালাই। আগে এত দ্রুত আসতে পারতাম না। রাস্তা ভাঙা থাকতো, দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ি সারাতে সময় লাগতো। পথে চাঁদা দিতে হতো। এখন এসব নেই। দেড় থেকে পৌনে দুই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসি। এবারের ঈদে এখন পর্যন্ত এই মহাসড়কে যানজট লাগেনি। আজ সকাল থেকে সড়ক ফাঁকা।’
কুমিল্লার দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও আমাদের ছয়টি টহল টিম মহাসড়কে আছে। জরুরি রেসপন্স করার জন্য আছে দুটি টিম। টোলপ্লাজাসহ দাউদকান্দি এলাকার কোথাও যানজট নেই। আজ দুপুর থেকেই মহাসড়ক একেবারে ফাঁকা।’
হাইওয়ে কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গতরাতে ঘুমাতে পারিনি। হাইওয়ের সব পুলিশ সদস্য ঘাম ঝরানো পরিশ্রম করেছেন। এখনও মাঠে আছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রমের কারণে এখন পর্যন্ত যানজট লাগেনি। আর লাগবে বলে মনে হয় না। কারণ শুক্রবার মহাসড়ক ফাঁকা হয়ে গেছে। কোনও ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে ফিরেছেন এই মহাসড়কের যাত্রীরা। আশা করছি, ফিরতি যাত্রাও স্বস্তির করতে পারবো।’