ঈদের আমেজে মঙ্গলবার বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১১৪তম আসর। এ উপলক্ষে সোমবার (২৪ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। লালদীঘির পাড়ে বসা এই মেলা চলবে বুধবার পর্যন্ত।
এরই মধ্যে বলীখেলার অংশ নিতে আগ্রহীরা ইতোমধ্যে আয়োজক কমিটির কাছে নাম জমা দিয়েছেন। এবার তিন বছর পর লালদীঘির ময়দানে বসছে জব্বারের বলীখেলা। ইতোমধ্যে বাঁশ ও বালু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে খেলার মঞ্চ।
এর আগে ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে জব্বারের বলীখেলা ও মেলার আয়োজন করা হয়নি। ২০২২ সালে আয়োজন করা হলেও লালদীঘি মাঠের সংস্কারকাজের কারণে ভেতরে খেলা হয়নি। সে হিসাবে তিন বছর পর লালদিঘীর মাঠে ফিরছে জব্বারের বলীখেলা।
এদিকে, জব্বারের বলীখেলা ঘিরে সোমবার সকাল থেকে মেলা বসেছে। রবিবার বিকাল থেকে লালদিঘী ময়দানের বাইরে ও আশপাশের এলাকায় মেলার জিনিসপত্র এনে রাখা হয়। সোমবার দোকানিরা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন।
আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কমিটির সভাপতি আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার আবদুল জব্বারের বলীখেলা শুরু হবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার লালদিঘীর ময়দানে খেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তিন দিনব্যাপী মেলা সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। চলবে বুধবার পর্যন্ত। মেলার দোকানিদের কাউকে চাঁদা না দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
নগরের আন্দরকিল্লা মোড় থেকে লালদিঘী ময়দান হয়ে কোতোয়ালি থানা মোড় পর্যন্ত মেলার দোকান সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি কেসিদে রোডের সিনেমা প্যালেস পর্যন্ত প্রায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মেলার দোকান বসানো হয়েছে।
মেলায় গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন লোকজ শিল্পের পাশাপাশি শিশুদের খেলনা, বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী, গৃহস্থালি পণ্য; দা-ছুরি ও বটি, আসবাবপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। এ ছাড়া নানা ধরনের হস্তশিল্প এবং ফল ও ফুলের গাছ নিয়ে পসরা সাজিয়েছে তারা। সকাল থেকে বিক্রেতারা মেলায় বেচাকেনা করছেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির জানান, 'সোমবার থেকে মেলা শুরু হয়েছে। এজন্য দোকানিরা রবিবার থেকে পসরা সাজাতে শুরু করে। মঙ্গলবার মেলার পাশাপাশি বলী খেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলার নিরাপত্তায় কোতোয়ালি থানা-পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বলেন, ‘১৯০৯ সাল থেকে বলীখেলা ও এই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। তবে ২০২০ ও ২০২১ সালে দুই বছর করোনা মহামারির কারণে বলীখেলা ও মেলার ১১১ ও ১১২তম আসর বাতিল করা হয়। পরের বছর আয়োজন করা হলেও বলীখেলা হয়নি।’
জানা গেছে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশের যুবকদের সংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বকশিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর চালু করেছিলেন বলীখেলা। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি ১২ বৈশাখ লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জব্বারের বলীখেলা।