ঘরে পড়ে ছিল মায়ের খণ্ডিত মরদেহ, পুলিশ হেফাজতে ছেলে

লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের আবাসিক কোয়ার্টারের একটি ঘর থেকে মমতাজ বেগম (৪৫) নামে এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
 
নিহত মমতাজ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কুশাখালী এলাকার মৃত আব্দুল মতিনের স্ত্রী।

জানা গেছে, মমতাজের স্বামী লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগে গাড়ি চালক পদে চাকরি করতেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তার দুই ছেলে শরিফুল ইসলাম বাপ্পী ও ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম রকিকে নিয়ে সড়ক বিভাগের স্টাফ কোয়ার্টারের একটি বাসায় থাকেন মমতাজ। বড় ছেলে বাপ্পী সড়ক বিভাগে অস্থায়ী ভিত্তিতে পিয়নের কাজ করেন। এ ঘটনায় তার বড় ছেলে বাপ্পীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ছোট ছেলে রকির কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের ডিগ্রির ছাত্র।

বড় ছেলের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানায়, মমতাজ তার ছোট ছেলে রকিকে বাসায় রেখে বড় ছেলে বাপ্পীকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যান। সোমবার সন্ধ্যায় তারা বাসায় ফেরেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বড় ছেলে বাপ্পী বাসায় এসে তার মাকে ডাকাডাকি করেন। এতে কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এ সময় তিনি ঘরের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। আশপাশের বাসায় খোঁজ নিয়েও মায়ের খোঁজ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে যান। এ সময় মায়ের রক্তমাখা খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। 

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মমতাজের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম বাপ্পীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে মমতাজ খুন হয়ে থাকতে পারেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।