দুই ছেলেকে নিয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলায় অংশ নিয়েছেন ৭১ বছর বয়সী নগরীর উত্তর পতেঙ্গা এলাকার খাজা আহমেদ বলী। তিনি বলীখেলায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে লালদীঘির ময়দানে তারা বলীখেলায় অংশ নেন। বলীখেলায় অংশ নেওয়া খাজা আহমেদের দুই ছেলের মধ্যে আছেন বড় ছেলে সেলিম ও ছোট ছেলে কাইয়ুম বাদশা। কাইয়ুম বাদশা প্রথমবারের মতো অংশ নিলেও সেলিম ১০ বছর ধরে প্রতিযোগিতায় লড়ছেন।
খাজা আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ৫০ বছর ধরে বলীখেলায় লড়ে যাচ্ছি। অনেক পুরস্কার পেয়েছি। বলীখেলায় প্রতিযোগিতায় লড়ে যাওয়া আমার নেশা। প্রতি বছর অপেক্ষায় থাকি কখন বলীখেলা শুরু হবে, আর এতে অংশ নেবো। আমার তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে এবার খেলায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রথমবার হলেও আরেকজন ১০ বছর ধরে লড়ে যাচ্ছে।’
মেলা আয়োজক কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী বলেন, ‘এবারের বলীখেলায় অংশ নিতে ৬০ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। বিকাল ৪টার থেকে খেলা শুরু হয়েছে। খেলা শেষ হতে সন্ধ্যা হবে। এরপর বিজয়ী ঘোষণা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘১৯০৯ সালে এই মেলার আয়োজন শুরু হয়। তবে ২০২০ ও ২০২১ সালে দুই বছর করোনা মহামারির কারণে জব্বারের বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার ১১১ ও ১১২তম আসর বাতিল করা হয়।’
জানা গেছে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দেশের যুবকদের সংগঠিত করতে ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বকশিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর চালু করেছিলেন বলীখেলা। এরপর ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রতি ১২ বৈশাখ লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জব্বারের বলীখেলা। খেলা ঘিরে লালদীঘির আশপাশের প্রায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে বসে বৈশাখী মেলা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।