চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের এক বছর পর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের বিস্ফোরণ একটি দুর্ঘটনা। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী সব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে।
শনিবার (৪ জুন) রাতে এক বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২০২২ সালের ৪ জুনের আকস্মিক অগ্নিকাণ্ড একটি দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার পরও দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তারপরও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছি।’
গত বছরের ৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেসরকারি বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত হন ৫১ জন। আহত হন দুই শতাধিক।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সব নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা। তাদের পরিবারের সব সদস্যদের জন্য রইল গভীর সমবেদনা। দুর্ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন এবং যারা জীবন বাজি রেখে অগ্নিকাণ্ড নির্বাপনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি মোতাবেক নিহতদের পরিবার ও আহতদের চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। ক্ষতিপূরণ প্রাপ্যদের সর্বশেষ তালিকা যাচাই-বাছাই সম্প্রতি শেষ হয়েছে। অতি শিগগির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে সার্বিক কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।’
দূর্ঘটনা পরবর্তী বিএম ডিপোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অফডক হিসেবে পুনরায় গড়ে তোলার সামগ্রিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার নির্মাণকাজ গত ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। এবং বর্তমানে সমগ্র ডিপো ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম ও ফোম সিস্টেমের আওতাধীন। কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য অফডক নীতিমালার নির্দেশনা মোতাবেক সামগ্রিক অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং অত্যাধুনিক অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকদের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ সমন্বিত কমপ্লায়েন্স টিমের সন্তুষ্টি প্রকাশের পর পুনরায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।