পেশা ছাড়ছেন আরও চামড়া ব্যবসায়ী

চট্টগ্রামে প্রতি বছরই কমছে কাঁচা চামড়া শিল্পে জড়িত ব্যবসায়ীর সংখ্যা। গত কোরবানিতে ৪০ জন আড়তদার  পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। এবার সে সংখ্যা ২৫-৩০-এ নেমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঢাকার ট্যানারিতে বিক্রি করা চামড়ার টাকা না পেয়ে ও অব্যাহত লোকসানের বোঝা সহ্য করতে না পেরে পেশা ছাড়ছেন তারা। এখনও ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীদের পাওনা রয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে বৃহত্তর চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একসময় চট্টগ্রামে কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতিতে সদস্য সংখ্যা ছিল ১১২ জন। তারা প্রত্যেকেই কোরবানির পাশাপাশি সারা বছরই চামড়া সংগ্রহ করতেন। গত কয়েক বছর ধরে চামড়ার দাম কমে যাওয়াসহ অব্যাহত লোকসানের কবলে পড়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।’

তিনি বলেন, ‘আবার চট্টগ্রামের ৫০ জনের মতো আড়তদার ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা আছেন অন্তত ২০ কোটি টাকা। কয়েক বছর আগের এ পাওনা তারা শোধ করছেন না। এ কারণে অনেকেই পুঁজি হারিয়ে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে এ পেশা ছেড়েছেন। গত বছর ৪০ জনের মতো আড়তদার চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। এবার চামড়া সংগ্রহকারী আড়তদারের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জনের বেশি হবে না।’

মো. সুমন নামে এক আড়তদার বলেন, ‘গত বছর কোরবানিতে চট্টগ্রামে তিন লাখের বেশি গরু-মহিষের চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন আড়তদাররা। এবার এ সংখ্যা আরও বেশি হবে। এ লক্ষ্যে সব আড়তদার চামড়া সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। প্রত্যেকে লবণ, শ্রমিক ও চামড়া মজুতের স্থান সাজাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে একসময় ২২ থেকে ২৩টি ট্যানারি ছিল। এসব ট্যানারিতে যে পরিমাণ চামড়া প্রয়োজন হতো তা চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহের পর অন্য জেলা থেকেও সংগ্রহ করতেন। এসব ট্যানারি নগদ টাকায় চামড়া কিনতো। নানা টানাপোড়নের কারণে এসব ট্যানারি এখন বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে রিফ লেদার নামে একটিমাত্র ট্যানারি সচল আছে। সেটি কোরবানিতে লাখের কাছাকাছি চামড়া কেনে। বাকি চামড়া ঢাকায় অবস্থিত ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়।’

মো. মোজাম্মেল হক নামের অপর চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার লবণের ভালো উৎপাদন হলেও দাম নেওয়া হচ্ছে বেশি। গত বছর ৭৪ কেজি ওজনের এক বস্তা লবণের দাম ছিল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। এবার প্রতি বস্তার দাম চাওয়া হচ্ছে এক হাজার ১৫০ টাকা। একটি চামড়ায় ১০ কেজির মতো লবণ প্রয়োজন হয়। এক বস্তা ৭-৮টি চামড়ায় দেওয়া যায়। হঠাৎ লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচা চামড়ায় ব্যয় বাড়বে। কোনও কারণ ছাড়াই লবণের দাম বাড়িয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটি কাঁচা চামড়া কেনার পর সেটিকে বিক্রির উপযোগী করতে লবণ ব্যতীত একটি চামড়ার প্রতি ফুটে ১০-১২ টাকা করে খরচ পড়ে। তবে এবার লবণজাত চামড়া প্রতি ফুট কত টাকায় কেনা হবে তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। কোরবানিদাতা কিংবা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করি। এরপর লবণজাত করে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করে থাকি।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অবস্থিত একমাত্র ট্যানারি রিফ লেদারের পরিচালক মোখলেসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এবার এক লাখের বেশি চামড়া কিনবো। এর মধ্যে ১২-১৫ হাজার চামড়া নিজেরাই সরাসরি কোরবানি দাতাদের কাছ থেকে নেবো। বাকি চামড়া কিনবো লবণজাত করা আড়তদারের কাছ থেকে।’