চট্টগ্রামে আড়তদারদের এবার চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে তিন লাখ। তবে শুক্রবার (৩০ জুন) দুপুর পর্যন্ত চামড়া সংগ্রহ হয়েছে দুই লাখ ১০ হাজারের মতো। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আরও এক লাখ ৪০ হাজার চামড়া কম সংগ্রহ হয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার চামড়া সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। আমরা যতটুকু সংগ্রহের আশা করেছিলাম তার চেয়ে এবার এক লাখ ৪০ হাজারের মতো কম চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। আমরা প্রতি পিস চামড়া ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় কিনেছি। প্রায় ৪০ জন আড়তদার এসব চামড়া সংগ্রহ করেছি।‘
চামড়া কম সংগ্রহ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এবার গাউসিয়া কমিটিসহ বিভিন্ন মাদ্রাসা এতিমখানার জন্য চামড়া সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো তারা পৃথক পৃথক স্থানে লবণ দিয়ে সংরক্ষণে রেখেছে। এ কারণে আড়তে কম চামড়া এসেছে। তবে এটি ভালো হয়েছে। যে কারণে এবার একপিস চামড়াও নষ্ট হয়নি।’
গাউসিয়া কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মানবিক সেবা টিমের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার গাউসিয়া কমিটি চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় মিলে এক লাখ পিসের বেশি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছে। এরমধ্যে ৩৫ হাজারের মতো চামড়া জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া কামিলা মাদ্রাসা মাঠে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদ্রাসার মাঠে সংরক্ষণ করা হচ্ছে ২৫-৩০ হাজার চামড়া। নগরীর হালিশর এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসার মাঠে সংরক্ষণ হচ্ছে ১২-১৫ হাজার চামড়া। উত্তর জেলার অধীনে বিভিন্ন মাদ্রাসার মাঠে সংরক্ষণ করা হচ্ছে আরও ৩০ থেকে ৩৫ হাজারের বেশি চামড়া। সব মিলিয়ে এক লাখের বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, 'চামড়া বিক্রির টাকা বিভিন্ন মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে এরকম গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের থাকা-খাওয়ার জন্য ব্যয় করা হয়। জামেয়া মাদ্রাসার অধীনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত দুইশটি মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। এসব মাদ্রাসার শিক্ষক-ছাত্রদের ব্যয় এ ফান্ড থেকেই মেটানো হয়।'