বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট চুরি করতেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও ডিসির পোস্টিং দিচ্ছে। আজকে টিএনওর পোস্টিং হচ্ছে। কেন হচ্ছে? আবার ভোট চুরি করতে। জনগণের ভোটের অধিকার হনন করতে। যাদের পোস্টিং করা হচ্ছে, তারা তাদের দলীয় মানুষ। ভুলে যান। বাংলাদেশের জনগণ আপনাদের আর ভোট চুরি করতে দেবে না।’
বুধবার (১৯ জুলাই) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি নুর আহমেদ সড়কে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়।
আমির খসরু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা, তার দল ও দলের ভোট সহযোগীদের হৃদয়ে কম্পন শুরু হয়ে গেছে। এমন কম্পন শুরু হয়েছে যে তারা আওয়ামী পুলিশ সন্ত্রাসী, তাদের দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের মিছিল মিটিংয়ে হামলা চালাচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে আমাদের এক ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। কিশোরগঞ্জে আক্রমণ করেছে। অনেক নেতাকর্মী হতাহত হয়েছে। ফেনীতে আক্রমণ হয়েছে। খাগড়াছড়িতে আক্রমণ করেছে। কোনও লাভ হয়েছে? খাগড়াছড়িতে তারা পালিয়েছে। গতকাল মিরপুরে পদযাত্রায় আমি ছিলাম। সেখানে আক্রমণ করেছে। কিন্তু কিছু করতে পারেনি। তারা পালিয়েছে।’
‘সহিংসতা যারা করে তাদের সঙ্গে জনগণ নেই’ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন সুশৃঙ্খল। দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। কারা সহিংস হবে? যারা সুশৃঙ্খল না। সহিংসতা যারা করে তাদের সঙ্গে জনগণ নেই। আমরা সুশৃঙ্খল। তাই আমাদের সহিংস হওয়ার দরকার নেই। তাদের নির্ভরশীলতা পুলিশ ও লুটেরা ব্যবসায়ীদের ওপর। আমাদের তাদের দরকার নেই। আমাদের দরকার বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণ রাস্তায় নেমেছে। জনগণ এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশের জনগণ নয়, সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষ, সরকার গণতন্ত্র রক্ষার এই আন্দোলনকে সমর্থন দেয়। তারা বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন, বাক স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা চায়। এখানে সব পরিষ্কার। বার্তা পরিষ্কার। বার্তা যদি তাদের কাছে পরিষ্কার না হয় তাহলে আরও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে তাদের পতন ঘটাতে হবে।’
আমির খসরু বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রামে লাখ লাখ জনতা এই পদযাত্রায় যোগ দিয়ে শেখ হাসিনার পতনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে। সরকারকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দিয়ে পতন করতে হবে। বিএনপি এখানে দাঁড়িয়েছে কারণ আমরা সুশৃঙ্খল ছিলাম। এ জন্য শেখ হাসিনা বিপদে আছে। উচ্ছৃঙ্খল আন্দোলন দিয়ে দাবি আদায় করা যায় না। এক দফার দাবি শেখ হাসিনার বিদায়ের ডাক এসেছে।’
আমির খসরু মাহমুদের নেতৃত্বে পদযাত্রা কাজীর দেউড়ি নুর আহমেদ সড়ক থেকে শুরু করে লাভলেইন, জুবলী রোড, তিনপুলের মাথা, নিউমার্কেট, স্টেশন রোড়, বিআরটিসি, কদমতলী হয়ে দেওয়ান হাট মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।