সৌদি থেকে ফিরে ভুয়া সনদে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, ৩ বছর ধরে দিয়েছেন চিকিৎসা 

নোয়াখালীর গুড হিল হসপিটাল থেকে নুরুল হাসান (৫০) নামে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ভুয়া সনদে সেজেছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। গত তিন বছর ধরে এই হাসপাতালের রোগীদের দিয়েছেন চিকিৎসা। এতে বহু হৃদরোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শনিবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে শহরের গুড হিল হসপিটাল থেকে তাকে আটক করা হয়। নুরুল হাসান নিজেকে বগুড়া সদর উপজেলার ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে বলে দাবি করেন। সে অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নুরুল হাসানের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল হাসান স্বীকার করেছেন, চিকিৎসক সনদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই গত তিন বছর ধরে গুড হিল হসপিটালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা রয়েছে বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, নুরুল হাসান ২০২০ সাল থেকে মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুড হিল হসপিটালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে চেম্বার করে আসছিলেন। এর আগে কক্সবাজারে চেম্বার করতেন। সম্প্রতি রোগীদের দেওয়া ওষুধ ও রিপোর্ট নিয়ে জেলার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সন্দেহ হয়। একাধিক হৃদরোগীকে দেওয়া ভুল রিপোর্ট ও ওষধু দেখে অবাক হন চিকিৎসকরা। কয়েকজন রোগী তাদের জানান, হৃদরোগের ইকো রিপোর্ট নিয়ে অপারেশন করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

রোগীদের এসব অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আবু তাহের কয়েকজন রোগীর রিপোর্ট দেখলে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় নুরুল হাসানকে কৌশলে মাইজদীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ডেকে আনেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিএমডিসি সনদ যাছাই-বাছাইয়ে গরমিল পাওয়া যায়। একপর্যায়ে নিজেকে ভুয়া চিকিৎসক বলে স্বীকার করেন। সেইসঙ্গে নুরুল হাসান জানিয়েছেন, আট বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালেও রোগী দেখেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, ‘নুরুল হাসানের সনদগুলো ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিএমডিসি সনদটি অসাধু উপায়ে তৈরি করেছেন। এসব সনদ দেখিয়ে গত কয়েক বছর কক্সবাজার ও নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে চেম্বার খুলে রোগী দেখেছেন। আটকের পর তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আমাদের অফিসের এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে মামলা করবেন।’

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা নুরুল হাসানকে থানায় হস্তান্তর করেছেন। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জয়পুরহাট থানায় একটি মামলা রয়েছে। ভুয়া সনদে রোগী দেখার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’