কুমিল্লায় প্রেম করার অপরাধে এক কিশোরকে (১৬) পায়ুপথে ছুরি ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা ওই কিশোরকে বাড়িতে ডেকে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে ডেকে নেওয়ার পর সেখান থেকে সে রক্তাক্ত অবস্থায় নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। রবিবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত কিশোর কুমিল্লা নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন প্রেমিকার পরিবারের সদস্যরা।
নিহত কিশোরের মা বলেন, 'প্রতিবেশী বাদল মিয়ার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিছুদিন আগে মেয়ের স্বজনরা আমার বাড়িতে এসে ছেলের ওপর হামলা চালান। তার অপরাধ সে কেন প্রেম করে। গত বৃহস্পতিবার আবারও তারা আমার বাড়িতে এসে ছেলের ওপর হামলা করেন। এরপর থেকে আমি ছেলেকে তাদের বাড়ির দিকে যেতে নিষেধ করি এবং এই সম্পর্ক থেকে বের হতে বলি। পরদিন রাতে আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায় তার বন্ধু ইমন। কিছুক্ষণ পর ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাড়িতে এসে লুটিয়ে পড়ে। জানতে চাইলে বলে তার পায়ুপথে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তখন আহত অবস্থায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ঢাকায় নিতে বলেন। ঢাকায় দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার রাতে মারা যায়। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। মারা যাওয়ার আগে ছেলে প্রেমিকার বাবা বাদলের নাম বলে গেছে।'
নিহতের খালা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার প্রেমের বিষয়ে সমস্যার সমাধান হয়। এরপর শুক্রবার রাতে তাকে ডেকে নিয়ে ঘরের পাশে ছুরিকাঘাত করে একটু দূরে ফেলে রেখে চলে যায় প্রেমিকার স্বজনরা। এ ঘটনার পর থেকে মেয়ে আর তার পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। তারা বাড়িতে তালা মেরে পালিয়েছেন।'
এ বিষয়ে জানতে বাদল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেটি মারা যাওয়ার আগে বলে গেছে, কে কে হত্যায় জড়িত। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতরা বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন। নিহতের স্বজনদের বলেছি, মামলা করতে।’
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কামরান হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। পরিবার মামলা করলে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’