কালুরঘাট সেতুর সংস্কার শুরু, ৩ মাস বন্ধ থাকবে ট্রেন ও যান চলাচল

অবশেষে শুরু হলো চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত ৯২ বছরের পুরোনো কালুরঘাট সেতুর সংস্কারকাজ। দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরুর আগে সেতু মজবুত করতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে বিভাগ। সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সেতু দিয়ে ট্রেন ও যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংস্কারকাজ শেষ হতে সময় লাগবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ তিন মাস। এই তিন মাস সেতু দিয়ে যানবাহন এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে যানবাহন পারাপারের জন্য কর্ণফুলী নদীতে ফেরি চলাচল করবে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল থেকে সংস্কারকাজের জন্য কালুরঘাট সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেতুর সংস্কারকাজ চলবে। এই তিন মাস যানবাহন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘যানবাহন ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে। সংস্কারকাজ চলা অবস্থায় দুটি ফেরি চলাচল করবে। পাশাপাশি আরও একটি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনও কারণে একটি ফেরি নষ্ট হলে অতিরিক্ত ফেরিটি কাজে লাগানো হবে।’ 

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কালুরঘাটে ফেরি পারাপারে যানবাহন অনুযায়ী টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি লরির টোল ৫৬৫, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ৪৫০, মাঝারি ট্রাক ২২৫, বড় বাস ২০৫, মিনিবাস ১১৫, মিনি ট্রাক ১৭০, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ছোট যান ১৩৫, মাইক্রোবাস-পিকআপ-জিপকার ৯০, অটোভ্যান- অটোরিকশা-ব্যাটারিচালিত রিকশা-মোটরযান ২৫, মোটরসাইকেল ১০ ও রিকশা-ভ্যান-বাইসাইকেলের টোল পাঁচ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   

যানবাহন পারাপারের জন্য কর্ণফুলী নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শক দলের সুপারিশ অনুযায়ী সংস্কার করা হচ্ছে। এতোদিন সেতু দিয়ে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনে ১০ টন ভারী ইঞ্জিন চলাচল করতো। সেতু পার হওয়ার সময় গতি থাকতো সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার। তবে কক্সবাজারগামী ইঞ্জিনের ওজন হবে ১২-১৫ টন। ট্রেনের গতি হবে ৮০-১০০ কিলোমিটার। এ কারণে সেতু সংস্কার ছাড়া দোহাজারী-কক্সবাজার রেল যোগাযোগের সুফল মিলবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলওয়ের প্রকৌশলীরা জানান, এর আগে ২০০৪ সালের ১৩ আগস্ট ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুতে বড় ধরনের সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে আরেক দফা সংস্কার করা হয়েছিল। 

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৯৩১ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করে ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানি নামের সেতু নির্মাণকারী একটি প্রতিষ্ঠান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের জন্য এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। যদিও পরে দোহাজারী পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয় এই রেললাইন। ৬৩৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুই দফায় সেতুটি সংস্কার করেছিল রেলওয়ে। কিন্তু এরপরও সেতুটির অবস্থা জরাজীর্ণ। এ অবস্থায় সেতুটির ওপর দিয়ে ট্রেনের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়াগামী গাড়িও চলাচল করে। ট্রেন চলাচল করলে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে। একমুখী যান চলাচলের কারণে সব সময় যানজট লেগে থাকে। যাত্রী ও চালকদের প্রচণ্ড ভোগান্তি পোহাতে হয়।