চট্টগ্রামে ১৭টি প্রকল্প ও দুটির ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম নগরের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানের ১৭টি প্রকল্প মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। একই সঙ্গে দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।  

সোমবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান সফল করতে সব সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা হয়েছে। এতে অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ‘সিডিএর তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব প্রকল্প উদ্বোধন ঘিরে পতেঙ্গা এলাকায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তিন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সিরাজউদ্দৌলা রোড থেকে শাহ আমানত ব্রিজ সংযোগ সড়ক (বাকলিয়া এক্সেস) নির্মাণ, এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের সীমানা দিয়ে লুপ রোড নির্মাণসহ ঢাকা-ট্রাংক রোড থেকে বায়েজিদ বোস্তামী পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি পতেঙ্গা এলাকায় যুক্ত হয়ে প্রকল্পগুলো উদ্বোধন করবেন।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি প্রকল্প উদ্বোধন ও একটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল উদ্বোধন এবং বে-টার্মিনাল মাস্টারপ্ল্যানের ভিত্তিপ্রস্তর করবেন। এ উপলক্ষে বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে আয়োজন করা হয়েছে অনুষ্ঠানের। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্প দুটি উদ্বোধন করবেন।’

এছাড়া আরও ১২টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব প্রকল্প ও ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজন করা হয়েছে পৃথক অনুষ্ঠানের। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব প্রকল্প ও ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের বাস্তবায়িত দুটি। এর মধ্যে নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহের উন্নয়ন ও নির্বাচিত বেসরকারি মাদ্রাসা সমূহের উন্নয়ন নামে প্রকল্পের মোট ১০টি প্রতিষ্ঠানের ভবন উদ্বোধন।

গণপূর্ত অধিদফতরের বাস্তবায়িত দুটি প্রকল্পের মধ্যে আছে, আগ্রাবাদের সিজিএস কলোনিতে জরাজীর্ণ ১১টি ভবনের স্থলে ৯টি বহুতল আবাসিক ভবনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৬৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম শহরে পরিত্যক্ত বাড়িতে সরকারি আবাসিক ফ্ল্যাট ও ডরমিটরি ভবন নির্মাণ।    

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের আছে একটি প্রকল্প। এটি হলো চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প। প্রকল্পের অধীনে ২৭টি ভবনের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ নামের একটি প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মিত ভবন উদ্বোধন করা হবে।  

এছাড়া আছে সমাজসেবা অধিদফতর বাস্তবায়িত চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) বাস্তবায়িত চার প্রকল্পের মধ্যে আছে, মহেশখালী জিরো পয়েন্ট (কালাদিয়ার চর) সিটিএমএস (ধলঘাট পাড়া) গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ, মহেশখালী থেকে আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ, আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ এবং চট্টগ্রাম-ফেনী-বাখরাবাদ গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে আছে, মীরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নে আমান উল্লাহ ভূঁইয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণকাজ।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে আছে মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ ও কেজিডিসিএল গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক আপগ্রেডেশন প্রকল্প।

এছাড়া আছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বাস্তবায়িত ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) এর ২৫২তম কিলোমিটারে মুরালী খালের ওপর ১২১ মিটার ভেল্লাপাড়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প।