ইউপিডিএফের ৪ নেতাকে হত্যা: জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে চার জনকে হত্যার প্রতিবাদে জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও ঠাঙাড়ে বাহিনী ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান ইউপিডিএফ নেতারা।   

ঘটনার এক সপ্তাহ পরও জড়িতদের গ্রেফতার না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইউপিডিএফর নেতারা। একটি বিশেষ গোষ্ঠী হত্যাকারীদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে অভিযোগ করে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে কারা খুন, সন্ত্রাস, অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি করছে; তা চার নেতার খুনের ঘটনায় আরও একবার দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

মিথ্যা মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন চালিয়ে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে পরিচালিত গণতান্ত্রিক আন্দোলন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে ওই গোষ্ঠীটি বেছে বেছে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনপন্থি নেতাকর্মীর খুন করতে ঠ্যাঙাড়ে জল্লাদ বাহিনীকে মাঠে নামিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তারা বলেন, ২০১৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিশেষ গোষ্ঠীটি ঠ্যাঙাড়ে দিয়ে মিঠুন চাকমা, তপন এল্টন চাকমাসহ ইউপিডিএফের ৫৫ জন নেতাকর্মী ও সমর্থককে হত্যা করেছে। সরকারকে এই হত্যার মহোৎসব অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

তারা বলেন, ‘৯০ দশকে জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে মুখোশ বাহিনীকে ভেঙে দিয়েছিল, সেভাবে বর্তমান ঠ্যাঙাড়ে মুখোশদেরও জনতা রুখে দেবে।

অবিলম্বে চার নেতার খুনিদের গ্রেফতার করে জনসমক্ষে বিচার ও সাজা নিশ্চিত করা, ঠ্যাঙাড়ে নব্যমুখোশ বাহিনী ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান তারা। না হলে জনগণ খুনি-সন্ত্রাসীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে যা যা করণীয় করবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এর আগে, গত ১১ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে খাগড়াছড়ির সীমান্ত এলাকার পাহাড়ি জনপদ পুজগাংয়ের অনিলপাড়ায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) সাবেক সভাপতি ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল চাকমা, পিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুনীল ত্রিপুরা, ইউপিডিএফর সংগঠক রুহিন বিকাশ ত্রিপুরা (রহিনসা) ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা সহসভাপতি লিটন চাকমা।