পুলিশ ও নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবার জানায়, ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো নির্যাতিত ছাত্রী। এ সুবাধে শিক্ষক সম্পদ চন্দ্র দাসের কাছে প্রাইভেটও পড়তো সে। সোমবার বিকেলে স্কুলছুটির পর সম্পদ চন্দ্র দাস ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে স্কুলে থাকতে বলে। এ সময় ওই ছাত্রীকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে ধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায় বলে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ। স্কুলছুটির পরও সে বাড়িতে না যাওয়া ওই ছাত্রীর মা স্কুলে ছুটে আসেন। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায় এবং রামগতি থানা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখে। এ ঘটনায় এদিন বুধবার সকালে নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে রামগতি থানায় ওই স্কুল শিক্ষককে আসামি করে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ চরআলেকজান্ডারের চরডাক্তার পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে। নির্যাতিত ওই ছাত্রীকে শারীরিক-পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জন্য একইদিন দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত শিক্ষক রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডারের চর ডাক্তারপাড়া গ্রামের সীমান্ত চন্দ্র দাসের ছেলে।
এদিকে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সম্পদ চন্দ্র দাস বলেন, এ ঘটনার জন্য তিনি অনুতপ্ত। কোনওভাবেই এ ধরনের কাজ করা ঠিক হয়নি।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার সার্কেল মো. নাসিম মিয়া জানান, ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। নির্যাতিত স্কুলছাত্রীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে অভিযুক্ত শিক্ষক।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ জানান, এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/এএইচ/