শিশু এমরান হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, এখনও এক আসামি পলাতক

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানি ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর শিশু এমরান হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় আদালতে সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মামলায় অভিযুক্ত চার আসামির মধ্যে তিন জন গ্রেফতার হয়ে জেলা কারাগারে আছে। তবে অপর আসামি এখনও পলাতক।

কারাগারে থাকা আসামিরা হলো ছয়ানি ইউনিয়নের বড় মেহেদীপুর লক্ষ্মণপুর গ্রামের মহিনের নতুন বাড়ির আবদুর রহমান মহিনের ছেলে মো. ওয়াসিম আকরাম, পশ্চিম খালিশপুরের মানিক ড্রাইভারের ছেলে মো. রনি ও লক্ষ্মণপুর ব্যাপারি বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. জাফর। অপর আসামি লক্ষ্মণপুর বরন্দাজ বাড়ির নুর নবীর ছেলে আব্দুর রহমান এখনও পলাতক রয়েছে। নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

নিহত এমরান হোসেন (৭) একই ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের গজারি বাড়ির সামছুল হকের ছেলে এবং ছয়ানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। 

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলায় গ্রেফতারকৃত তিন আসামি কারাগারে। আরেক আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট দুপুরে নিখোঁজ হয় এমরান। এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট বেগমগঞ্জ থানায় জিডি করেন বাবা সামছুল হক। ২৫ আগস্ট রাতে ছয়ানী বাজারের শহীদের পরিত্যক্ত দোকান ঘরের ভেতরে প্লাস্টিকের মাছের ঝুড়িতে রশি দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৬ আগস্ট হত্যা মামলা করা হয়। এরপর তদন্তে নেমে মামলার অন্যতম আসামি ওয়াসিম আকরামকে ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর ছয়ানী বাজার থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৩ সেপ্টেম্বর মামলার প্রধান আসামি ওয়াসিম আকরাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় এবং তার সঙ্গে আরও তিন জন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানায়, শিশুটিকে ধরে নিয়ে পরিত্যক্ত ওই ঘরে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে তারা। এরপর লাশ প্লাস্টিকের মাছের ঝুড়িতে মুড়িয়ে লুকিয়ে রাখা হয়।

আরও পড়ুন: এমরান হত্যা: এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত ওয়াসিম-রনি

আরও পড়ুন: শিশু এমরান হত্যামামলার ৩য় আসামি অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার