নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বেপরোয়া গতির স্টার লাইন পরিবহনের বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা-ছেলেসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। দুর্ঘটনার বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন।
শনিবার (৩ আগস্ট) বেলা ১১ টায় বেগমগঞ্জ-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুর্গাপুর ইউনিয়নের দোকানঘর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দুর্গাপুর ইউনিয়নের ছাদু ব্যাপারী বাড়ির অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিন (৫৫), তার মা তাহেরা বেগম (৭৫) এবং তার চাচাতো ভাই সলিমুল্লার স্ত্রী কহিনুর বেগম (৪৫)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ফেনী থেকে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। যাত্রাপথে বাসটি বেগমগঞ্জ-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুর্গাপুর ইউনিয়নের দোকানঘর এলাকায় পৌঁছালে সড়কের একপাশ সরু থাকায় বাসটি উল্টো পথে ঢুকে পড়ে। ওই সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে সামনে থেকে চাপা দেয় স্টার লাইন বাস। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে বাসের নিচে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান অটোরিকশাচালক জসিম, যাত্রীর সিটে থাকা তার মা ও ভাবি।
বাসে থাকা মোমিত নামে এক যাত্রী জানান, বাসটি মাত্র ৯ মিনিটে দাগনভূঁঞা থেকে বেগমগঞ্জের দোকানঘর আসে। চালক শুরু থেকেই খুব বেপরোয়া গতিতে বাস চালায়। বাসে থাকা একাধিক যাত্রী চালককে আস্তে গাড়ি চালাতে বললেও সে কারো কথায় কর্ণপাত করেনি। উল্টো গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়।
জানা যায়, অটোরিকশাচালক জসিম তার মা ও ভাবিকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একই পরিবারের তিন জন মারা যান। বেগমগঞ্জ-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের দুর্গাপুর ইউনিয়নের দোকানঘর এলাকার রাস্তা একপাশে সরু থাকায় প্রায় গাড়ি এখানে উল্টো পথে ঢুকে রাস্তা পার হয়। যে কারণে এই স্থানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘ঘটনার পরপরই ঘাতক বাসচালক পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।’