চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে জেলা ও মহানগরে কাজ করবেন প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবী। পাশাপাশি গ্রাফিতি ও ক্যালিওগ্রাফি, ট্রাফিক, নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও হাসপাতাল বিষয়ে পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম জেলাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউট প্রতিনিধি, রেড ক্রিসেন্ট, গার্লস গাইড ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এসব কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, আহত শিক্ষার্থীদের সেবা, থানা ও সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহ এবং ধর্মীয় উপাসনালয় সমূহের সুরক্ষার জন্য বিএনসিসি, স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, গার্লস গাইডের মত স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’
তার কথায়, ‘চট্টগ্রাম মহানগর এবং ১৫টি উপজেলার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, থানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং ধর্মীয় উপাসনালয় সুরক্ষা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য এবং হাসপাতালে আহতদের সেবার জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট গঠন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ বিষয়ে আজ ৫টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে গ্রাফিতি ও ক্যালিওগ্রাফি, ট্রাফিক, নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও হাসপাতাল।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শহরের দেয়ালে দেয়ালে যে গ্রাফিতির কাজ করছেন সেটি আমাদের শহরকে সুন্দর করছে। তারা এই বিপ্লবের স্মৃতিগুলোকে ধরে রাখছেন। দেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে তুলে ধরছেন। আমাদের এই পাঁচ কমিটি তাদের সেই কাজে সমন্বয় করবে। নির্দিষ্ট একটি অংশ প্রতিদিন সেই কাজে যোগ দেবে। এরপর ট্রাফিকে একটি অংশ থাকবে। কোন সংগঠন থেকে কে থাকবে এবং কতজন থাকবে সেটি ঠিক করবে।’
‘নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসন অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, আদালত ভবন, বিচারকদের এলাকাগুলো নিরাপত্তায় আনা হবে। এ ছাড়া টানেল, বিমানবন্দর, বন্দর, কাস্টমস, উপজেলা পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ সব কটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তারা দেখবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো দেখবে। এর সঙ্গে আমাদের থানা, উপজেলাসহ সব স্থাপনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হবে। আর সবশেষ হাসপাতালে সেবা দেওয়া হবে। অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীদের পাঠানো, চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। এসব কাজে জেলা ও মহানগরে প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। এর মধ্যে শহরের থানাগুলোতে ১২৮ জন, আদালতে ৩০ জন, সিটি করপোরেশনে ১০ জন, অন্যান্য ৩২ জনসহ মোট ২০০ জন। এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ২৬০ জন, গ্রাফিতিতে ৬০ জন কাজ করবেন।’ যোগ করেন তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাদি-উর-রহিম জাদিদ বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরী এবং চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, আহতদের সেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, থানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো সুরক্ষায় নির্দিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা প্রয়োজন। এজন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্লাটুন কমান্ডার বিএনসিসির মো. আবু নাছির, চট্টগ্রাম জেলা নৌ-কাব স্কাউট লিডার হাসিনা সুলতানা, জেলা সম্পাদক চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন স্কাউটস মো. মিজানুর রহমানসহ চট্টগ্রাম জেলার বিএনসিসি, স্কাউট প্রতিনিধি, রেড ক্রিসেন্ট, গার্লস গাইড ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিগণ।