চট্টগ্রাম চেম্বারের দুই সহসভাপতিসহ সব পরিচালকের পদত্যাগ

চট্টগ্রাম চেম্বারের একসঙ্গে ১০ পরিচালকের পদত্যাগের পর সভাপতি ওমর হাজ্জাজ সোমবার পদত্যাগ করেছেন। একই দিন বাকি আরও ১১ পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। এর আগে রবিবার একসঙ্গে চেম্বারের ১০ পরিচালক পদত্যাগ করেন। ফলে চেম্বারের ২৪ সদস্যের পুরো পর্ষদ ভেঙে গেলো। 

চেম্বার সূত্র জানিয়েছে, দুই সহসভাপতি ও ২১ পরিচালকের পদত্যাগের পর সভাপতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

চেম্বার সভাপতি (সাবেক) ওমর হাজ্জাজ বলেন, ‘পরিচালকরা চেম্বার সভাপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আমি সভাপতি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’

চট্টগ্রাম চেম্বারের মহাসচিব ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘চেম্বারের পুরো বোর্ড (২৪ পরিচালক) পদত্যাগ করেছেন। আমরা পদত্যাগপত্রগুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি।’

ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে গেলে চেম্বার ঘিরে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে। ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে ‘পরিবারতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগে কয়েক দিন ধরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছিলেন তারা। এ পরিস্থিতিতে গত ২৮ আগস্ট সিনিয়র সহসভাপতি তরফদার রুহুল আমিন ও পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী পদত্যাগ করেন।

এই দুই পরিচালকের পদত্যাগের চার দিনের মাথায় রবিবার আরও ১০ জন পদত্যাগ করেন। সোমবার সভাপতিসহ বাকি ১২ জন পদত্যাগ করলেন।

১১৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই চেম্বার থেকে প্রথম পদত্যাগের ঘটনা ঘটে ওমর হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের মেয়াদে। গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে পরিচালক হিসেবে প্যাসিফিক জিনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর পদত্যাগ করেছিলেন। চেম্বারের ইতিহাসে পুরো পর্ষদ পদত্যাগের ঘটনাও এটি প্রথম।

চট্টগ্রাম চেম্বারে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। ওই নির্বাচনে এম এ লতিফ-সমর্থিত মাহবুবুল আলম-নুরুন নেওয়াজ সেলিম পরিষদ ২৪ পদের মধ্যে ২০টিতে জয়ী হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবাদে মাহবুবুল আলম প্রথমবারের মতো সভাপতি হন। এরপর টানা পাঁচবার ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। 

সর্বশেষ গত বছরের আগস্টে বিনা ভোটের নির্বাচন হয়। প্রথমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালকরা নির্বাচিত হয়েছেন, এরপর তারা সভাপতি নির্বাচিত করেন। এতে সভাপতি হন ওমর হাজ্জাজ।