শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকায় এবং প্রবেশনারি পিরিয়ডে চাকরি সন্তোনষজনক না হওয়ায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক প্রিন্স মাহমুদ ও আইসিটি বিভাগের প্রভাষক নাজিম উদ্দিন।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. নাছিম আখতার। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মেজর (অব.) মো. আব্দুল হাই স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করা হয়, চাকরিরত অবস্থায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন-২০২০-এর ৪৩(৪) ও ৪৩(৫) ধারা পরিপন্থি কার্যক্রমে জড়িত থাকা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করা এবং নিয়োগপত্রের ৪ নম্বর শর্তানুসারে প্রবেশনারি পিরিয়ডে চাকরি সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রভাষক প্রিন্স মাহমুদ ও নাজিম উদ্দিনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের শৃঙ্খলার স্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার বলেন, ‘প্রভাষক প্রিন্স মাহমুদ ও প্রভাষক নাজিম উদ্দিন বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়ে ব্যাঙ্গ করেছেন। এ ছাড়া উপাচার্যের ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন অকথ্য ও অশ্লীল ভাষায় তথ্য শেয়ার করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টিসহ উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে নানাভাবে উসকানিমূলক কাজে ব্যবহার করেন। যা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থি। তাদের এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। যেখানে সারা দেশে শিক্ষকদের পদত্যাগের জন্য বাধ্য না করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেখানে এই দুই শিক্ষক শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করতে উচ্ছৃঙ্খলতা চরম পর্যায় পৌঁছিয়েছেন। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রভাষক প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে আগে শোকজ করতে হবে। পরে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু নিয়ম না মেনে আমাদের অব্যাহতি দিয়ে একটা চিঠি মেইলে পাঠানো হয়েছে। আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। যা মেনে নেওয়ার মতো নয়।’