ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতবিনিময় সভায় সমন্বয়করা বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা যে গর্তেই লুকিয়ে থাকুক না কেন তাকে বের করে এনে ফাঁসি দিতে হবে। এ জন্য সরকারকে চাপ দিতে হবে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক তাদেরকে চাপে রাখতে হবে। প্রয়োজনে আবার আন্দোলনে নামতে হবে।’
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চে আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্র-নাগরিক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেছেন, ‘পাশের রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ও সমতার। তবে কোনও ধরনের নতজানু সম্পর্ক হবে না।’
তিনি বলেন, ‘হাসিনাকে হটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়েছি। কিন্তু তার ম্যাকানিজম এখনও আছে। তার সাঙ্গপাঙ্গরা এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যে লঙ্কায় যায় সেই বারণ হয়- আমরা এটা দূর করতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের বিপ্লব ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে, কোটা সংস্কারের পক্ষে। সে সময় এ দেশের ছাত্র-জনতা একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলো। তখন ফ্যাসিবাদী সরকার দাবিগুলোকে তোয়াক্কা না করে হাইকোর্টের মাধ্যমে আন্দোলনকে নির্বিকার বলে বাতিল করেছিল। তাছাড়া শেখ হাসিনার বিতর্কিত মন্তব্য ‘‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের চাকরি না দিয়ে রাজাকারের ছেলে-মেয়েদের চাকরি দেবো কি না’ এই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে ছাত্র-জনতা। তার দুই দিন পর ১৫ জুলাই ছাত্র-জনতার ওপর হামলা করা হয় এবং ১৬ তারিখ আবু সাঈদসহ ৬ জন সংগ্রামী ছাত্র শহীদ হয়েছে। ছয়টি তাজা রক্ত ঝরে পড়ার পর এটি শুধু কোটা আন্দোলন ছিলো না। ছয়টি লাশের বিনিময় কোটা আন্দোলন হতে পারে না। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যার নির্দেশে এই রক্ত ঝরানো হয় তাকে পতন না করানো পর্যন্ত ছাত্র জনতা রাজপথ ছাড়বে না। আর তাই হয়েছে।’
আব্দুল কাদের বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে তাদেরকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনে শহীদদের প্রত্যেকের পরিবারে একটি করে চাকরি দেওয়া হবে। ফাউন্ডেশন গঠন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেই ফাউন্ডেশন থেকে নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’
সমন্বয়ক হামযা মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- আলী আহমেদ আরাফ। আরও মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক জিয়া উদ্দিন আয়ান, নিহতদের পরিবারের পক্ষে সাইদুর রহমান, শাহজাহান মোল্লা, ইসরাত জাহান প্রমুখ।
জিয়া উদ্দিন আয়ান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আর মাথা নত নয়, ভারতের কাছে। এটা ছাত্রদের প্রতিনিধির সরকার। আস্থা রাখতে হবে এ সরকারের প্রতি। আগে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর আগে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’