সম্প্রতি শরীয়তপুরে এক মাছচাষির পুকুরে চাষ ছাড়াই ’ইলিশ’ পাওয়ার খবরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সেই ইলিশ আনা হচ্ছে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে। তবে ১৩ মার্চ রবিবার পর্যন্ত শরীয়তপুরের সেই ইলিশ মাছের নমুনা চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে আসেনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আখেরি নাঈমা।
এদিকে, ওই মাছ ও পানি পরীক্ষার জন্য চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে না আসায় শরীয়তপুরে যাচ্ছেন ইলিশ গবেষক ও মৎস্য গবেষকরা।
শরীয়তপুরের মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, এটি ইলিশ কিনা তা সঠিকভাবে দেখতে হবে। তবে কবে নাগাদ এটি চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণাগারে পাঠানো হবে তাও বলতে পারেননি তিনি।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত প্রধান ইলিশ গবেষক ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিছুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। ১৩ মার্চ রবিবারও শরীয়তপুর থেকে কিছু আসেনি। তাই আমরাই সেখানে যাবো। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শরীয়তপুরের মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি- তিনিও আমাদের সঙ্গে থাকতে চান।
তিনি বলেন, আমাদের টিম রেডি আছে। সোমবার অথবা মঙ্গলবারই আমরা শরীয়তপুরে যাবো। যদি ওই পুকুরের সঙ্গে বড় নদী কিংবা খালের যোগাযোগ থাকে- যেখানে স্রোত বা জোয়ার ভাটার পানির যোগসূত্র থাকে, সেক্ষেত্রে এটি হওয়াটা স্বাভাবিক। আর যদি তা না হয়, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন ধরনের। তবে সেখানে গিয়ে আঁড়িয়াল খাঁ নদীর পানি, পুকুরের পানি, প্রাপ্ত মাছসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পরীক্ষা করে দেখবো।
ড. আনিছুর রহমান জানান, সাধারণত পুকুরে বা বদ্ধ জলাশয়ে গভীর পানির মাছ ‘ইলিশ’ দীর্ঘজীবী হয় না, বাড়েও না। আর হলেও সেটির আকৃতি স্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পায় না। আমরা ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত গবেষণা করে দেখেছি- স্রোত, গভীরতা এবং খাবার দিয়েও তাদের পূর্ণাঙ্গ ইলিশে রূপান্তর করা যায়নি। ১৫-৩০ গ্রাম সাইজের জাটকা নদী থেকে এনে চাঁদপুর গবেষণা ইনস্টিটিউটের তিনটি পুকুরে দীর্ঘ সময় প্রতিপালন করে ৩৫০-৪০০ গ্রাম পর্যন্ত বড় করা গেছে। যাতে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের চরচটাং গ্রামে হাবিবুর রহমান নামে এক মাছচাষির পুকুরে কয়েকটি ইলিশ পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ৪ মার্চ আবারও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে পুকুরে জাল ফেলা হয়। এ দিনও অন্যান্য মাছের সঙ্গে কয়েকটি ইলিশ পাওয়া যায়। যে ইলিশ মাছ অনেকেই খেয়েছেন। আকৃতিতে ওই ইলিশ ছিল ৫-৯ ইঞ্চির মধ্যে।
/বিটি/টিএন/