পাহাড়ের মানুষ বদ্ধ পরিবেশে জীবনযাপন করছে: সন্তু লারমা

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেছেন, ‘পাহাড়ের বুকে নিরাপত্তাহীন ও অনিশ্চিত এক ভবিষ্যৎ নিয়ে বসবাস হচ্ছে আমাদের। পার্বত্য অঞ্চলের ১৩ ভাষাভাষীসহ ১৪টি ভাষাভাষীর মানুষ এখানে বাসবাস করছে। দীর্ঘ
লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। কিন্তু শান্তি চুক্তি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ বদ্ধ পরিবেশে জীবনযাপন করছেন। যা কোনোভাবেই কাম্য না আমাদের।’

শুক্রবার সকালে রাঙামাটি শহরের রাঙাপানি এলাকায় ‘মোনঘর’-এর (মোনঘর উচ্চবিদ্যালয়, মোনঘর শিশুসদন, আবাসিক) সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সন্তু লারমা বলেন, ‘পাহাড়ে শান্তি নিকেতন হিসেবে পরিচিত ও ১৩টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার শিক্ষা প্রসারের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান মোনঘর। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছরে পা দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ে অন্যতম বিদ্যাপীঠে পরিণত হয়েছে। এটি পার্বত্য অঞ্চলে স্মরণীয় থাকবে। এখানের শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিলে হবে না, নিজেদের এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নিজস্ব জাতিসত্তার জন্য কাজ করতে হবে। এখন থেকে বের হয়ে অনকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অবদান রাখছে এবং রাখবে।’

সকাল ১০টার দিকে মোনঘর মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মোনঘর উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক গৌরিকা চাকমা। বক্তব্য দেন চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায়, মং সার্কেলের প্রধান রাজা সাচিংপ্র চৌধুরী, মোনঘরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সুভাষ চাকমার স্ত্রী রাখি দেওয়ান, মোনঘরের দাতা পিয়ার মার্চেল, মোনঘর পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথের এবং মোনঘরের প্রাক্তন ছাত্র ও ঘাগড়া কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল মিত্র চাকমা প্রমুখ।

সভার আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাঙাপানি গ্রামের মাঠে মোনঘরের ৫০ বছর সুবর্ণজয়ন্তী উদ্বোধন উপলক্ষে এক প্রদর্শনীর আয়োজন হয়। সেখান থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়ে মোনঘর মাঠে শেষ হয়।