কোনও জোট করিনি, ট্রাক প্রতীকে সারা দেশে নির্বাচন করবো: নুরুল হক

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনও রাজনৈতিক জোট করিনি। আগামী নির্বাচনে গণধিকার পরিষদ এককভাবে ট্রাক প্রতীকে সারা দেশে নির্বাচনে অংশ নেবে।‌’

মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘জুলাই বিপ্লব ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জন আকাঙ্ক্ষার রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল হক বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন করতে হবে। তাহলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার, মেয়ররা সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবে।’

তিনি অনতিবিলম্বে ডাকসু-চাকসুসহ সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দিকে যেন যান। এ দুই নির্বাচনের পরে জাতীয় নির্বাচন হতে হবে। ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে- যদি এ সরকার স্থানীয় নির্বাচন করতে পারে।’

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে নুরুল হক বলেন, ‘আপনারা যদি ভেবে থাকেন, কোনও বিশেষ দল ক্ষমতায় আসছে, তাদের সঙ্গে খাতির করে তাদের নিয়ে কাজ করি। ভুল করবেন। কে ক্ষমতায় আসবে এটা এখনই কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা রাজনীতিবিদদের লুটপাট-দুর্নীতি ও হাসিনার ফ্যাসিবাদের কথা বলছি। হাসিনা ফ্যাসিবাদী হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী এ দেশের আমলাতন্ত্র। এসপি বলেন, ডিসি বলেন, তারা বহাল তবিয়তে আছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ- দেশ ছাড়ছে। তাদের অনেকের মধ্যে মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছেন। কয়জন এসপি-ডিসি গ্রেফতার হয়েছেন? কয়জন ইউএনও-ওসি গ্রেফতার হয়েছেন? এই ওসি, ডিসি, ইউএনও, এসপিরা হাসিনার আকাম, কুকামের সহযোগী ছিল। হাসিনার বিচারের পাশাপাশি প্রশাসনের মধ্যেও যারা সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদের মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর, সহযোগী ছিলেন- তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি অবশ্যই করতে হবে।’

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, ‘সরকারকে বলছি, আপনাদেরকে ভারতের সঙ্গে শক্তভাবে দেন-দরবার করতে হবে। শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে পৃথিবীর বুকে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে‌- যে ফ্যাসিবাদের পরিণতি এই।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের নাকি সাড়ে তিন মাস দেশে ছিলেন। অথচ আমরা টেরই পেলাম না। অনেক ক্ষেত্রে বিপ্লবের পরে সবকিছু আইন সংবিধান নিয়মনীতি দিয়ে হয় না। যারা গুম, খুন, হামলা-মামলায় জড়িত ছিল, সবগুলোকে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে ব্রাশফায়ার করা দরকার ছিল।’

নুরুল হক বলেন, ‘ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও চিপায় চাপায় মিছিল করে। আওয়াজ দেয়। কত বড় দুঃসাহস। এখনও তারা আওয়াজ দিচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য আন্দোলনের আমরা যারা অংশীদার নেতা- অনেকেই আমরা দল ভারী করার জন্য আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করছি।’