টিউশন শেষে ফেরার পথে অপহরণের শিকার, চার ঘণ্টা পর কুবি শিক্ষার্থী উদ্ধার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগের শাকিল আহমেদ সবুজ নামের এক শিক্ষার্থী অপহরণের শিকার হয়েছেন। এর চার ঘণ্টা পর কুমিল্লা শহরের তোয়া হাউজিং এলাকা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, শিক্ষার্থী ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারীদের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়।

অপহরণের শিকার শাকিলের ভাষ্যমতে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে টিউশন শেষ করে কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। অপহরণকারীরা একই অটোরিকশায় অবস্থান করে। পরে দৌলতপুর এলাকায় আসার পর তাকে ভুল রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়ি থেকে লাফ দেন। এরপর ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য আরেকটি অটোরিকশা নিলে সেখানেও অপহরণকারীরা তার পিছু নেয়। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে তোয়া হাউজিং এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে আটকে রাখে অপহরণকারীরা। এরপর শাকিলের পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা।

অপহরণকারীদের মধ্যে আটক একজন কুমিল্লার সাতোরা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে মো. নাহিদ (২০)।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ স্বীকার করে নাহিদ জানান, তারা পাঁচ জন মিলে শাকিলকে অপহরণ করে। বাকি চার জন হলো– বিষ্ণপুর এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে জিহাদ (১৯), ঝাউতলা এলাকার আক্তার মোল্লার ছেলে সাইফুল (২০), ফৌজদারি এলাকার শাহিন (২০) এবং আকাশ (২০)।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মুহাম্মদ সাকিব হুসাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে অপহরণের খবরটি পেয়ে শাকিলের নম্বর সংগ্রহ করে আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠাই। পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তোয়া হাউজিং এলাকায় অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের কিছু শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় এবং পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় শাকিলকে সুস্থভাবে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারীদের মধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।’

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমরা অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অপহরণকারীদের একজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’