আট মাসেও তদন্ত শেষ হয়নি চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে চলাচল করা উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবার বগিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস এ করপোরেশনের কর্মীদের দ্বারা তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার। তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত চার জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতাররা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
গত বছরের ২৫ জুন সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে তরুণী (১৯) ধর্ষণের শিকার হন। ওই ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনাকারী (খাবার সরবরাহকারী) এস এ করপোরেশনের চার কর্মী মিলে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই তরুণী চার জনকে আসামি করে পরদিন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার এজাহারভুক্ত এস এ করপোরেশনের চার কর্মীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার চার জন হলো- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানাধীন ভাদেশ্বরা এলাকার মো. বাছির মিয়ার ছেলে মো. জামাল (২৯), জামালপুর জেলার ইসলামপুরের কুলকান্দি মধ্যপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে মো. রাশেদুল হক (২৮), জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ীর কুমারপাড়ার মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. শরিফ মিয়া (২১) ও নোয়াখালীর জেলার বেগমগঞ্জের কুতুবপুরের গোলাম নবীর ছেলে আব্দুর রব রাসেল (২৮)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ২৫ জুন ওই তরুণী সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। টিকিট না পেয়ে ট্রেনের খাবার বগির একটি সিটে বসেন ওই তরুণী। ওই ট্রেনে ২৬ জুন ভোরে এজাহারভুক্ত চার জন মিলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে তরুণীকে। ট্রেনের খাবার বগিতে ওই তরুণী বসার পর থেকে এস এ করপোরেশনের কর্মীরা উত্ত্যক্ত করতে থাকে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে অনেক যাত্রী তাদের বারণ করেন। ভোরের দিকে খাবার বগিতে লোকজন কমে গেলে ওই তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি রেলের অন্য যাত্রীরা জানার পর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অবহিত করেন। পরে পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় নিয়ে এলেও একজনকে পরদিন গ্রেফতার করা হয়।
উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করেছে গ্রেফতার এস এ করপোরেশনের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের চার কর্মী। গ্রেফতার চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ১ জুলাই দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালত। দুই দিনের রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। আদালতের নির্দেশে গত বছরের ২ জুলাই থেকে তাদের চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উদয়ন ট্রেনে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ডিএনএ পরীক্ষা হয়। ডিএনএ রিপোর্ট এখনও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে আসেনি। রিপোর্ট পেলে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ মামলায় অভিযুক্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণ সম্পর্কে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। স্বীকার করেছে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ। তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই ট্রেনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এস এ করপোরেশনের কার্যক্রম স্থগিত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উদয়ন এক্সপ্রেসের পাশাপাশি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খাবার সরবরাহ করা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনেও প্রতিষ্ঠানটির খাবার সরবরাহ স্থগিত করা হয়। এখন পর্যন্ত ওই দুই ট্রেনে খাবার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।