প্রতারণা করে মুক্তিযোদ্ধার নাতি কোটায় চাকরি, সাবেক কনস্টেবল কারাগারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রতারণা করে মুক্তিযোদ্ধার নাতি কোটায় সরকারি চাকরি করার অভিযোগে মো. সুমন (৩১) নামে পুলিশের এক সাবেক কনস্টেবলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

শনিবার (০১ মার্চ) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার রাতে আখাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মুক্তিযোদ্ধার নাতির পরিচয়ে এক যুগ পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, মো. সুমন আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মোগড়া গ্রামের বাসিন্দা। ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর আখাউড়ার মোগড়া গ্রামের যুবক মো. ফরহাদ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সুমনের প্রতারণার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তে তার প্রতারণার বিষয়টি পুলিশের কাছ ধরা পড়ে। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় সুমনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. সুমন ২০১২ সালে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পরীক্ষায় অংশ নেন। নিয়োগের সময় মুক্তিযোদ্ধার নাতি কোটায় চাকরির জন্য প্রতিবেশী সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মো. হোসেন মিয়ার মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করেন। মুক্তিযোদ্ধা পুরুষ (নাতি) কোটায় চূড়ান্তভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ট্রেনিং সেন্টারে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৩ সালের ২৯ মার্চ পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর স্থানীয় যুবক মো. ফরহাদ মিয়া এ প্রতারণার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি তৎকালীন কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেনকে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দেন। সেখানে কনস্টেবল সুমনের প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

ওসি মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘সুমন শুক্রবার ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরেছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’