দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর সড়ক ছেড়েছেন চট্টগ্রাম ইপিজেডের জেএমএস গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা। বেতন-বোনাসের দাবিতে সোমবার বেলা ১১টা থেকে নগরীর ইপিজেড থানাধীন ফ্রিপোর্ট মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে কারখানার কয়েকশ শ্রমিক। রাত সাড়ে ১১টায় তারা প্রশাসনের আশ্বাসে সড়ক ছাড়লে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, শিল্প পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ শ্রমিকদের সঙ্গে রাতে কথা বলেন। এতে শ্রমিকরা আজকের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধের জন্য দাবি জানান। পরে মঙ্গলবার বেতন-বোনাস পরিশোধে জেএমএস গার্মেন্টস কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের লিখিত আশ্বাসের প্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ১১টায় সড়ক ছেড়ে দেন তারা।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বোতন-বোনাস পরিশোধের জন্য একটি নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, জেএমএস গার্মেন্টস লিমিটেডের সব কর্মকর্তা, শ্রমিক ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস ২৫ মার্চ যার যার বিকাশ, রকেট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এসপি (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সোলায়মান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেএমএস গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা রাত ১১টার পর সড়ক অবরোধ ছেড়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। কারখানার কর্মকর্তারা বেতন-বোনাস দেওয়ার লিখিত অঙ্গিকার করেছেন। আশা করছি, মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য পেয়ে যাবেন। বর্তমানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।'
এদিকে, সোমবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধের কারণে আগ্রাবাদ-পতেঙ্গা সড়কের দুই পাশে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেএমএস গ্রুপের মালিকানাধীন জেএমএস গার্মেন্টস গত ৪ মার্চ কাজ না থাকায় এবং ব্যাংকিং জটিলতার কারণে লে-অফ (সাময়িক বন্ধ) ঘোষণা করা হয়। লে-অফ চলাকালে শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী ২০ মার্চ ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ২৩ মার্চ ঈদ বোনাস পরিশোধের কথা ছিল। তবে শ্রমিকরা ঘোষিত তারিখে বেতন-ভাতা পাননি। পরে নোটিশের মাধ্যমে ২৫ মার্চ বেতন পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হলেও শ্রমিকরা এ সিদ্ধান্ত না মেনে গত শনিবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ২৪ মার্চ বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে– মালিকপক্ষের এমন নির্দেশনা ও বেপজা কর্মকর্তাদের আশ্বাসে সড়ক থেকে সরে যান শ্রমিকরা।
বেপজার আশ্বাস অনুযায়ী সোমবার সকাল ১০টায় শ্রমিকরা কারখানার সামনে ভিড় করেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান কারখানাটিতে তালা ঝুলানো। এরপর তারা ফ্রিপোর্ট মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।