মৎস্য উৎপাদনে রেকর্ড :কাপ্তাই হ্রদে বেড়েছে রাজস্ব আদায়

Rangamati kaptai lake pic..2

কাপ্তাই হ্রদে বেড়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়। সুষ্ঠু পরিকল্পনাসহ বিএফডিসি, ব্যবসায়ী ও জেলেদের আন্তরিকতা এই রাজস্ব বেড়েছে বলে অভিমত বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি)। জেলেদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেওয়াসহ প্রশাসনের গভীর মনিটরিংয়ের কারণে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাইয়ে মৎস আহরণ ও বাজারজাত করে গত পাঁচ বছরে বিএফডিসি’র এর আয় বেড়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা।

২০১০-১১ সালে কাপ্তাই হ্রদে আয় হয় ৬ কোটি ৬৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আর সর্বশেষ ২০১৪-১৫ সালের চলতি মৌসুমে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় নয় কোটি টাকা। যা কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর সর্বোচ্চ। এ মৌসুমে গত জুলাই মাস থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে আহরিত মাছের ওপর রাজস্ব আদায় হয়েছে সাত কোটি ৬০ লাখ টাকা। মৌসুম শেষ হতে আরও প্রায় তিন মাস বাকি রয়েছে। সে হিসেবে এই অর্থবছরে রাজস্ব আদায় গতবারের চেয়ে বেশি হবে ধারণা করছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)।

বিএফডিসির গত পাঁচ বছরে অর্থ বছরের প্রথম আট মাস হিসেবে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে এই আয় বেড়েছে আড়াই কোটি টাকা। ২০১০-১১ সালে কাপ্তাই হ্রদে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাছ আহরণ করা হয় ৬৫৬১.৩১ টন এবং সেই সময় আয় হয় ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। আর সর্বশেষ ২০১৫-১৬ সালের চলতি মৌসুমে এই আট মাসে মাছের উৎপাদন হয়েছে ৬৮৮৯.২১ টন এবং একই সময়ে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাত কোটি ৬০ লাখ টাকায়। এবছর মৎস্য আহরণকালের সময় আরও তিন মাস বাকি রয়েছে,সে হিসেবে প্রায় নয় কোটি টাকার রাজস্ব ছাড়িয়ে যেতে পারে।

 

বিগত পাঁচ বছরের হিসাব পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে,চলতি আর্থিক সালে সর্বোচ্চ পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত জুলাই মাস থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আদায়কৃত রাজস্ব অতীতের যে কোনও সালের চেয়ে অনেক বেশি। এই অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত এই রাজস্বের পরিমাণ আরো বাড়বে। এদিকে বিএফডিসি বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যের ওপর শুল্ক আদায় করছে তা আরও বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। যদি শুল্কহার আরও বৃদ্ধি করা হয় তবে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য সম্পদ থেকে সরকারি রাজস্বের হার আরও  বেড়ে যাবে।

বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে,কাপ্তাই হ্রদ থেকে আহরিত মাছের মধ্যে ছয়টি ক্যাটাগরিতে রাজস্ব আদায় করা হয়। এর মধ্যে রুই/ কাতল মৃগেল চিতল মহাশোল (০১ কেজির উপরে) ৩৫ টাকা হারে বর্তমানে শুল্ক আদায় করা হচ্ছে,তবে নতুন শুল্ক হারে তা ৪৫ টাকায় প্রস্তাব করা হচ্ছে। সরপুটি/তেলাপিয়া/সিলভারকার্প/বিগহেড/গ্রাসকার্প/বোয়ালঘনিয়া/নাইলোটিকা/বাঁশপাতা/বাটা/বাতাসি/কালো টেংরা বর্তমানে ২১ টাকা হারে আদায় হচ্ছে,নতুন শুল্ক হারে এসব মাছের ওপর ২৯ টাকা শুল্ক আদায়ের প্রস্তাব করা হচ্ছে। কাজরি /কৈ/শিং/মাগুর/সাদা টেংর/বাঁচা/কালি বাউস/১কেজির উপরে আইড় বর্তমানে ২৭ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে। নতুন শুল্ক হারে তা ৩৬ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। চাপিলা/কাঁটা মইল্লা/কেচকি/কুঁচু চিংড়ি/কাকিলা/গুড়া মইল্লা মাছের বর্তমানে শুল্ক আদায় হচ্ছে ১২ টাকা,তা বৃদ্ধি করে ১৭ টাকায় প্রস্তাব করার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলি/শোল/গজার/বাইম/টাকি/১ কেজির নিচে আইড় বর্তমানে ২০ টাকায় শুল্ক আদায় হচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন শুল্কে তা ২৭ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। রুই/কাতল/মৃগেল/মহাশোল/চিতল মাছের ওপর ২২ টাকা হারে শুল্ক আদায় করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপক মাসুদুল আলম শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, বিএফডিসি’র নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাওয়ায় প্রতিবছরই রাজস্বের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ভবিষ্যতে তা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

/জেবি/