ফেনীতে এনসিপির নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক

ফেনীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন জেলা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরশুরাম উপজেলার সাবেক সমন্বয়ক নাহিদ রাব্বিকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফেনী প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদিত ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি গঠনের আগে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনও আলোচনা বা সমন্বয় করা হয়নি।

নবগঠিত কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিবরা (আবদুল কাইয়ুম সোহাগ, আবদুল্লাহ আল জোবায়ের, মোসলেহ উদ্দিন মেহেদি) ও যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্যাহ রাশেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘোষিত কমিটি পুনর্মূল্যায়ন করে পুনর্গঠন করা হোক; ত্যাগী ও আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের যুক্ত করে নতুন কমিটি গঠিত হোক; পকেট কমিটি তৈরি করার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং এনসিপির লক্ষ্য ও নীতি কোনও ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীর স্বার্থে প্রভাবিত না হোক।’

তারা আরও জানান, কমিটিতে অনেক আন্দোলনকারী নেতা বাদ পড়েছেন, জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

নাহিদ রাব্বির নামে বর্তমানে ফেনীর সিভিল সার্জন অফিসে সরকারি চাকরির জন্য ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মামলা রয়েছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। মামলার আরেকজন আসামি আব্দুল কাদের। উভয়ের ভয়েস কল রেকর্ড সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নাহিদ রাব্বি ফেনীর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক’ পদে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং চাকরির নিশ্চয়তার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।

আবদুল কাইয়ুম সোহাগ সাংবাদিকদের জানান, কমিটির গঠন নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, ঘোষিত কমিটি জনবিচ্ছিন্ন, আন্দোলনকারীদের অবহেলা করা হয়েছে এবং ঘুষ-চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। নেতারা আশা করছেন, কেন্দ্রীয় এনসিপি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কমিটির পুনর্গঠন করবে এবং প্রকৃত আন্দোলনকারী ও ত্যাগী নেতাদের সম্মান ফিরিয়ে দেবে।