জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, ‘গণভোটের ব্যালটে “না” ভোট দেওয়ার জন্য পুরোনো ফ্যাসিবাদী এবং নতুন ফ্যাসিবাদীদের মধ্যে ঐক্য হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের সেই ঐক্য নস্যাৎ করে দেওয়া হবে।’
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল এলাকায় নির্বাচনি পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সজীব ভুঁইয়া। পথসভায় আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রাম-৮ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী জোবাইরুল আরিফ ও বান্দরবান আসনের প্রার্থী সুজা উদ্দিনকে ভোটারদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের আগে ১৭ বছর যেভাবে দেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন, জেলখানায় অত্যাচার করা হয়েছে, তার একটা ডেমো আমরা গত ১৭ মাসে দেখেছি। ১৭ বছরের অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে। আমরা দেখেছি কীভাবে গ্রামের অলিগলি, শহরের বাজার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আমরা যদি এই চাঁদাবাজদের, এই সন্ত্রাসীদের আর না দেখতে চাই, তবে এবার ব্যালটে বিপ্লব করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৩০০ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষিত হয়েছে। আপনারা তাদের এই জাতির, এই দেশের মুক্তির প্রার্থী হিসেবে দেখবেন। কার কী মার্কা সেটা দেখার সময় নেই। আমরা শুধু দেখবো, এই দেশের মুক্তি কোন প্রার্থী কোন জোট এনে দিতে পারবে, আমরা সবাই চোখ বন্ধ করে তাদেরই ভোট দেবো। আপনাদের একটা ভোটের মাধ্যমে এবার বাংলাদেশ দীর্ঘকালীন স্বাধীনতা ও মুক্তির দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ সুশাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাবে, দীর্ঘদিন পর আবারও সার্বভৌমত্বের পথে এগিয়ে যাবে।’
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল বিগত ১৭ বছর ধরে সংস্কারের কথা বলে এসেছে। কিন্তু যখন সংস্কারের সময় এসেছে, তখন তাদের আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা শুধু আমাদের প্রার্থীদের জন্য ভোট চাইছি না। আপনারা যদি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেন, তবে আমরা হয়তো পাঁচ বছর আপনাদের দায়িত্ব নিয়ে সার্ভিস দিতে পারবো। তবে আপনারা যদি গণভোটে হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করেন, তবে আপনি কিংবা আমি নই, আমাদের সন্তানরা, আমাদের সন্তানদের পরবর্তী প্রজন্ম সুফল ভোগ করবে।’
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং যারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শক্তি হয়ে উঠতে চায়, গণভোটে না ভোটকে জয়যুক্ত করার জন্য তাদের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য গঠিত হয়েছে। আমরা ৫ আগস্ট যেভাবে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছি, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের এই ঐক্যকে আবার নস্যাৎ করে দেবো।’
এর আগে সকালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত মো. ইশমামুল হক চৌধুরীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির নির্বাচনি প্রচার শুরু হয়।
কবর জিয়ারত শেষে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ইশমামুল হকরা যে কারণে জীবন দিয়েছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।’
এ সময় আসিফ মাহমুদের সঙ্গে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।