চট্টগ্রামের রাউজানের সুলতানপুর পৌরসভা এলাকায় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নাগরিক প্রতিনিধি দল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন নাগরিক উদ্যোগ-এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, ব্লাস্ট, চট্টগ্রাম ইউনিটের স্টাফ আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ রানা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা রিবেক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে (সজীব) এবং একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরী। রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি তপন চৌধুরী (মনু), উপদেষ্টা অরুন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক ত্রিফল চৌধুরী, উল্লাস ধর ও শংকর দে।
পরিদর্শনের সময় অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরতি শীলের পোড়াভিটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রতিনিধি দল। এ সময় অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা দেখছি নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলার মধ্য দিয়ে একটা আতংক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। যাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে তারা অনেকেই এখন মনোক্ষতের মধ্যে আছে। কিন্তু আমরা প্রায় সময় দেখি নির্বাচন আসলে প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলি। কিন্তু ভোটারদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলি না। এদেশের সব ভোটার কী নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে? যেমন এখানে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা কী নিরাপদে ভোট দিতে পারবে, তার নিশ্চয়তা তো নেই।’
রোবায়োত ফেরদৌস আরও বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে সব নাগরিক যেন ভোটাধিকার প্রদান করতে পারে তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে এখানে যেসব জায়গায় বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণের একটা এসেসমেন্ট করতে হবে। ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে এই সংখ্যালঘুরা যেন নিরাপদে থাকতে পারে তার জন্য আতঙ্ক দূর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা আশা করছি নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সংখ্যালঘু জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এখানে দেখলাম সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করবো, তারা যেন ক্ষতিগ্রস্তদের একটা তালিকা তৈরি করে অতি দ্রুত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। যদিও এই খুচরা সহায়তা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না। আমরা আশা করবো এ ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, আসামিদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়।’
ব্লাস্টের চট্টগ্রাম ইউনিটের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা বলেন, ‘আমরা এসে দেখলাম এখানকার মানুষ এখনও আতঙ্কিত। তারা যদি ঘুমিয়ে পড়ে তবে মনে আতঙ্ক নিয়েই ঘুমায়, কখন আগুন দেয়। আর যে মামলা হয়েছে তার একটার পুলিশ রিপোর্ট প্রদানের সময় ছিল ২৫ জানুয়ারি। কিন্তু তখনও রিপোর্ট দিলো না। এখন রিপোর্ট প্রদানের নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে আগামী এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ। আমার অভিজ্ঞতা বলছে এভাবে যদি একের পর এক পুলিশ রিপোর্ট দেওয়া পেছাইতে থাকে তবে বিচার পাওয়া দুরুহ ব্যাপার হবে।’