চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ জাহিদুল হকের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আজ প্রথম দিনে মামলার বাদী নিহত সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে কারাগারে থাকা অন্যতম আসামি চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্যতীত বাকি ২২ আসামিকে কঠোর নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জেলহাজত থেকে অডিও-ভিজ্যুয়াল (ভার্চুয়াল) ব্যবস্থায় আদালতে উপস্থিত করা হয়। এজলাসে স্থাপিত এলইডি মনিটর ও অডিও সিস্টেমের মাধ্যমে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।

তবে সাক্ষ্য দান শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী তাকে জেরা করার জন্য আদালতের কাছে সময়ের আবেদন জানান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ জাহিদুল হক শুনানি শেষে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের মানুষ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দেখার অপেক্ষায় আছে। আজ বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। তবে আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক। আমরা দ্রুত সময়ে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলার এজাহার, চার্জশিট, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের জবানবন্দি, জব্দ করা আলামত (ধারালো অস্ত্র, লাঠি, রড প্রভৃতি), সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি—এসব উপাদানসহ বিচার বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।

চার্জশিটে আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- চন্দন দাশ মেথর, রিপন দাশ, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাশ, আমান দাশ, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাশ, ওমকার দাশ, বিশাল, লালা দাশ, সামীর, সোহেল দাশ, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবী চরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাশ, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস ও দ্বীপ দাস। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ২৩ আসামি কারাগারে থাকলেও এখনও ১৬ আসামি পলাতক।

২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়, আদালত জামিন মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সে সময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাকে কারাগারে নেওয়ার পথে বাধা দেন।

বিক্ষোভকারীরা আদালত চত্বরে বেশ কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় অবস্থিত একটি চেম্বার ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে আদালতের বিপরীত পাশে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় অবস্থানরত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। 

এ ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ৩৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন।

গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা শুনানি শেষে ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।