২ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে আসছে দুই জাহাজ

দুই লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে দুটি জাহাজ। সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা ডিজেলবাহী জাহাজ দুটি বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়বে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানি করা এসব ডিজেল বন্দরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে ওই দিন রাতে খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। দুই জাহাজে এক লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে মোট দুই লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ইতিমধ্যে ফার্নেস অয়েল, এলএনজি ও এলপিজি বোঝাই জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা ও তাদের মধ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কেননা বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগত এই নৌপথ অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমদানি নির্ভর বাংলাদেশেও।

ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড সূত্র জানিয়েছে, এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুয়া বন্দরে আটকা পড়েছে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই জাহাজটিতে ক্রুড অয়েল লোড করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনও বন্দরে নোঙর করে আছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেল ভর্তি জাহাজটি রওনা দিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী ধান্না বন্দর থেকে আরেকটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার শিডিউল রয়েছে। ওই জাহাজটিতেও এক লাখ টন তেল আনার কথা রয়েছে। তবে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি নয়; বিকল্প নৌপথ হয়ে দেশে আসবে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে তেল লোড করে আসবে এমন আশা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের।