ভোট গণনার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের আপত্তির মুখে ভোট গণনা ও নির্বাচন স্থগিত করেছে।

জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্র জানিয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায়। একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৫ পদের বিপরীতে ৩৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

মোট ৬৮৯ ভোটারের মধ্যে ৬৫৪ জন ভোট দেন। পরে বিকাল ৪টার পর আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে ভোট গণনা শুরু হয়। মোট ৬৫৪টি ভোটের মধ্যে ২২৫টি ভোট গণনা করা হয়। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনিসুর রহমান মঞ্জু ও সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ ব্যালটে ত্রুটি দেখিয়ে নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত আপত্তি জানান।

পরে এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা এবং নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

ভোট গণনা ও নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা আইনজীবী সমিতির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামীপন্থি আইনজীবী মফিজুর রহমান বাবুল জানান, ভোট গণনা ও নির্বাচন স্থগিত করা বিধি-বিধানের বাইরে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির ইতিহাসে কলঙ্ক জনক অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।

অপরদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দফতর সম্পাদক, নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পিপি ইমাম হোসেন জানান, ব্যালট পেপারে ত্রুটি ও ভোটারদের প্রাইভেসি নষ্ট হওয়ার কারণেই প্রার্থীরা আপত্তি জানান। যার কারণে নির্বাচন ও ভোট গণনা স্থগিত করা হয়।

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক জানান, সারাদিন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিখিত আপত্তির কারণে গণনা স্থগিত করা হয়। ব্যালট পেপারে যে ভুলের কথা বলা হয়েছে, আসলে সেটা কোনও ত্রুটি ছিল না। এর বেশি তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে গণনা করা ২২৫ ভোটের মধ্যে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তবে আওয়ামীপন্থি আইনজীবী প্রার্থীরা এগিয়ে থাকার কারণেই নির্বাচন স্থগিত করা হলো কি না? এমন প্রশ্নে সাংবাদিকদের কাছে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।