মায়ের কবরের পাশে শিশুর কান্না, ‘আরে কিল্লাই থুই গেলেন’

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সৎমায়ের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মায়ের কবরের পাশে বসে কান্না করছিল এক শিশু। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এ অবস্থায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে শিশুটির সৎমাকে ডেকে মুচলেকা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

শিশুটির নাম ছামিয়া আক্তার (১২)। সে লালমাই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পোহনকুছা পশ্চিমপাড়া এলাকার সোহাগ মিয়ার মেয়ে। তার ১০ বছর বয়সী একটি ভাই আছে। তাদের মা রেহেনা বেগম পাঁচ বছর আগে মারা যান। প্রবাসী বাবা সোহাগ মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমায়ের বিরুদ্ধে ছামিয়া ও তার ভাইকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

মায়ের কবরের পাশে কান্না করতে করতে শিশুটিকে বলতে শোনা যায়, ‘আরে (আমারে) কেন আপনার লগে (সঙ্গে) নিয়ে গেলেন না। আম্মু গো আই (আমি) আইছি (আসছি)। আম্মু গো বার (বের) অও (হও)। আরে (আমারে) লই (নিয়ে) যাইতে (যেতে) হারেন ন (পারেন নাই)? আরে কিল্লাই (কেন) থুই (রেখে) গেলেন?’

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই ভিডিও দেখার পর ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু বিষয়টির খোঁজ নেওয়ার জন্য বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেনকে দায়িত্ব দেন। ছামিয়া গতকাল তার মায়ের কবরের পাশে কান্নাকাটি করে। ওই দৃশ্য কেউ ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। আজ দুপুরে ছামিয়া ও তার সৎমা আয়েশা আক্তারকে ইউএনও কার্যালয়ে আনা হয়। আয়েশা আক্তার নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন কিছু না করার মুচলেকা দেন।  

স্থানীয় লোকজন জানান, শিশুটিকে প্রায়ই মারধর করা হতো। এমনকি সম্প্রতি তাকে টানা দুই দিন ঘরের ভেতরে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়। বিষয়টি বাবাকে জানালেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসন শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করেছে। ঘটনাস্থলে লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামানসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় লোকজন। তবে সচেতন মহল শিশুটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, ‘শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক। তারা দুই বোন। তাদের সৎমাকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যদি পুনরায় এমন কোনও অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’