চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও মিলছে না, লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ রায়পুরের মানুষ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গত তিন দিন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। রোদ, বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন উপজেলার প্রায় চার লাখ বাসিন্দা। একটু বাতাস হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পৌরশহরে ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও জনবহুল ১০টি ইউনিয়নে ১২ ঘণ্টাই হচ্ছে লোডশেডিং। সকালে না দুপুরে এক ঘণ্টা দিলে বিকালে আসে, আবার বিকালে এক ঘণ্টা দিলে রাতের অনেকটা সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না। 

দিকে বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা বলছেন, উপজেলায় চাহিদা ১৯ মেঘাওয়াট, কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে ৫-৬ মেগাওয়াট।

রায়পুরের পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ উপজেলা থেকে বিদ্যুতের গ্রিড আপডেট দিতে গত কয়েক বছর ধরে সরকারের কাছে আবেদন করলেও কোনও সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রায়পুর পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান।

দেখা গেছে, বুধবার দুপুর ৩টায় বিদ্যুৎ গেলে আবার আসে সন্ধ্যা ৬টায়। রাত ১০টায় নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। এতে ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালের ভর্তি রওগী ও এশিয়া মহাদেশে বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন-প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেনু পোনা উৎপাদন ব্যাহতসহ চার লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্য রয়েছে।

এই উপজেলায় প্রতিদিন ১৯ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬-৭ মেগাওয়াট। সরবরাহের ঘাটতি থাকায় দিনেও হচ্ছে এবং রাতে লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় স্কুল-কলেজে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বাসাবাড়ির মানুষের দুর্ভোগে হলেও করার কিছুই নেই বলে জানান বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।

প্রতিদিন রায়পুরে বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। সেখানে চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬-৭ মেগাওয়াট। উপজেলার ১০টি ইউপিতে বিদ্যুতের গ্রাহক ক্ষুব্ধ। অনেকে বিরক্তি প্রকাশ করে দিচ্ছেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট।

এতে রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজারে এবং সদরের বিসিক শিল্পনগরীর হিমাগারের রাখা বিভিন্ন পণ্য ও বেঙ্গল সু-কারখানায় কয়েক শ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতালে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প–কলকারখানা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেনু-পোনা উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। 

পৌরসভার পশ্চিম কাঞ্চনপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর স্বপন পাটোয়ারী, ব্যবসায়ী দেলোয়ার ও গৃহিণী তাসলিমা খানম বলেন, কতবার যে বিদ্যুৎ যায় আর আসে, হিসাব নেই। বুধবার রাত ১০টায় টায় বিদ্যুৎ গেলে বৃহস্পপতিবার ভোরে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া হয়। ভ্যাপসা গরমে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। শিশু ও বৃদ্ধদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। সময়মতো শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনাও হয় না।

রায়পুরের পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোশারফ হোসেন বলেন, রায়পুরের পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ উপজেলায় গ্রিডে সমস্যা এবং গাছপালা না কাটার কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ মোট গ্রাহক লক্ষাধিকেরও বেশি। মোট এক হাজার ৩১৮ কিলোমিটারে আবাসিক ৭৯ হাজার ৯২২ এবং বাণিজ্যিক গ্রাহক সাত হাজার ৬৩৯ জন। কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৯৫ জন। রায়পুর শহর, সোনাপুর ইউপির  রাখালিয়া, চরআবাবিল ইউপির হায়দরগঞ্জ ও চরবংশি ইউপির আখনবাজারে স্থাপিত চারটি অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা চলছে। ১২টি ফিডের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে সঞ্চালন লাইন। ৩০ জন লাইনম্যান প্রতিদিন গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬-৭ মেগাওয়াট। চাহিদার কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় দিনে ও রাতে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি। মানুষের দুর্ভোগ হলেও আমাদের করার কিছুই নেই।