বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী কর্মসূচি স্থগিত

বাঁশখালীতে গ্রামবাসী ও পুলিশের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেবাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী সব রকমের কর্মসূচি স্থগিত করেছে স্থানীয় গ্রামবাসীদের বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটি। আগামী ১৫ দিনের জন্য তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিত রাখবেন। এর মধ্যে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচিও বন্ধ করা হয়েছে।
বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বলেন, সরকারের আশ্বাসের ফলে আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী সব কর্মসূচি ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছি। যদি আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হয়, তবে আবারও আন্দোলন শুরু হবে।
এর আগে বিকেলে স্থানীয় প্রশাসন সাতকানিয়া সার্কেলের এসপি কামরুল হাসান, বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহ কবির লিটনের সঙ্গে বৈঠক হয় ‘বসতভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটির।
বৈঠকের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্বাসে আন্দোলন ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করবেন। সেই প্রতিবেদনের পরিবেশ ও মানুষের কোনও ক্ষতির বিষয় থাকলে ফের আন্দোলন শুরু হবে।

প্রসঙ্গত যে, আগের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাঁশখালীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে রোববার সকালে কাফনের কাপড় পরে উপজেলা কার্যালয় ঘেরাও করার কথা ছিল ‘বসতভিটা ও কবরস্থান রক্ষা কমিটি’র।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবীর লিটন বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, গ্রামবাসীর সব বৈধ দাবি মেনে নেওয়া হবে। এছাড়াও গ্রামবাসীদের নামে দায়ের করা সব মামলাও প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন তিনি।

উল্লেখ্য, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের নামে ওই এলাকায় স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে প্রচুর জমি ক্রয় করার চেষ্টা চালায় এস আলম গ্রুপ।কিন্তু, বাস্তুভিটা হারানোর আশঙ্কায় এবং অনেকে প্রতিশ্রুত পাওনা না পাওয়ায় এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে স্থানীয়রা। এর ফলে সেখানে বিদ্যুৎ প্রকল্পের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয় এলাকাবাসী।এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষ একই স্থানে সভা-সমাবেশ আহ্বান করায় গত ৪ এপ্রিল ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। কিন্তু, এ নিষেধাজ্ঞা ভেঙে উভয় পক্ষ পরস্পরের মুখোমুখি হলে পুলিশের উপস্থিতিতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ঘটে। এ সংঘর্ষে দুই ভাইসহ গ্রামটির চার ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় বাঁশখালী থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় লিয়াকতসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় তিন সহস্রাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ছবি: আর্কাইভ থেকে
/এমও/টিএন/