বান্দরবানে বর্ষবরণকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

Bandarban pic-(1)-10-4-16

প্রতিবছর আদিবাসীদের ঘরে সাংগ্রাই আসে নতুন সাজে। দিয়ে যায় কিছু আনন্দ, কিছু বেদনার ফুলঝুরি। ওই আনন্দ-বেদনার মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় প্রতিটি আদিবাসী’র দেহমনে জেগে উঠে নতুন পরিবর্তনের শিহরন, স্বপ্ন দেখে দিন বদলের,স্বপ্ন দেখে নতুন এক সকালের।

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় সংখ্যাঘরিষ্ঠ আদিবাসী মারমা, রাঙ্গামাটি’র চাকমা ও খাগড়াছড়ি’র ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বসবাস। চাকমা সম্প্রদায়রা এই উৎসবকে বিঝু, মারমা’রা সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরারা বৈসু বা বৈসুক বলে। ত্রিপুরাদের বৈসুর (বৈ), মারমাদের সাংগ্রায়ের (সা) চাকমাদের বিঝুর (বি) থেকে ‘বৈসাবি’। আর এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্ষবরণের ভিন্ন আমেজে মেতে উঠে পাহাড়ের আদিবাসীরা।

সাংগ্রাই উৎসব উৎযাপন কমিঠির সূত্রে জানা যায়, আগামী ১২ এপ্রিল সকালে বান্দরবানের রাজবাড়ি মাঠ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপি বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। ১৩ এপ্রিল দুপুরে উজানী পাড়ার পাশ্ববর্তী সাঙ্গুনদীতে বৌদ্ধ মূর্তি স্নান। ১৫ ও ১৬ এপ্রিল পুরাতন রাজার মাঠে মারমা আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা জলকেলিতে মেতে উঠবে, সন্ধ্যায় তারা আনন্দে মেতে উঠবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত রয়েছে মন্দিরে মন্দিরে ধর্ম দেশনা শ্রবণ, বিশেষ প্রার্থনাসহ ছোয়াইং দান অনুষ্ঠান।

সাংগ্রাই উৎসব উৎযাপন কমিঠির সভাপতি মং চিং নু মার্মা বলেন, ১২ এপিল থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ উৎসবে মেতে উঠবে আদিবাসীরা।

Bandarban pic-(4)-10-4-16

উক্ত অনুষ্ঠানগুলোতে প্রধান অতিথি হিসাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, জেলা প্রশাসক দীলিপ বণিক, পৌর মেয়র ইসলাম বেবী, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্যসহ স্থানীয় আদিবাসী নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

বর্ষবরণ উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য জেলায় শুরু হয়েছে আনন্দের বন্যা। দেশের অন্যতম পর্যটন শহর বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ির বিশেষ করে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা সম্প্রদায় পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নবর্বষকে স্বাগত জানিয়ে বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব উদ্যাপন করে। আর এ উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ে পর্যটকদের আগমন বাড়ার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

অন্যদিকে ১২ এপ্রিল তংচঙ্গ্যা কল্যান সংস্থার উদ্যোগে বান্দরবানের রেইছায় সাতকমল পাড়ায় বিষু উৎসব উৎযাপন করা হবে, এসময় আদিবাসী তংচঙ্গ্যারা মেতে উঠবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তাদের ঐতিহ্যবাহী ঘিলাখেলা প্রতিযোগীতায়।

Bandarban pic-(3)-10-4-16

বাংলাদেশ তংচঙ্গ্যা জাতীয় ঘিলাখেলা উৎযাপন কমিটির আহ্বায়ক কাঞ্চন জয় তংচঙ্গ্যা বলেন, হারিয়ে যাওয়া খেলাটিকে ফিরিয়ে আনতে প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষবরণে খিলাখেলার আয়োজন করা হচ্ছে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান,উৎসবকে ঘিরে জেলার উপজেলাগুলোর উৎসবস্থলে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাহাড়ের ভিন্নধর্মী বর্ষবরণের এই উৎসবকে ঘিরে তিন পার্বত্য জেলায় হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে, হোটেল -মোটেলগুলোতে সিট সঙ্কট দেখা দেয়।

/জেবি/