বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চট্টগ্রাম কার্যালয়ে শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে এক নারী প্রকৌশলীর সঙ্গে সিবিএর নেতাকর্মীরা দুর্ব্যবহার করেছেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে শ্রমিকনেতারা এক সহকারী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করেছেন। ওই প্রকৌশলীকে কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করেন তারা।
সিবিএ নেতাদের দুর্ব্যবহারের শিকার প্রকৌশলী হলেন নিলুফারিন আকতার। তিনি পিডিবির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কম্পিউটার কেন্দ্রে সিস্টেম অ্যানালিস্ট (নির্বাহী প্রকৌশলী) হিসেবে কর্মরত। মারধরের শিকার সহকারী প্রকৌশলী হলেন মাহাদী হাসান। এ ঘটনায় চার শ্রমিককে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে অবস্থিত বিদ্যুৎ ভবনের পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বুধবার এ ঘটনা জানাজানি হয়। এ ঘটনায় চার শ্রমিককে চট্টগ্রাম থেকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্ল্যান্ট অপারেটর-সি মো. হাফিজুর রহমানকে পাবনায়, লাইনম্যান মো. নুরুন্নবীকে ভোলায়, ইলেকট্রিশিয়ান মো. শফিকুল ইসলামকে সিলেট এবং গাড়িচালক মো. আইয়ুবকে দিনাজপুরে বদলি করা হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলুফারিন আকতার জানান, সম্প্রতি ‘কাজ নেই মজুরি নেই’ ভিত্তিতে একজন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সিবিএর নেতারা এর প্রতিবাদ করেন। তাদের মতামত না নিয়ে কেন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—তা জানতে মঙ্গলবার দুপুরে তার রুমে আসেন ২০-৩০ জন। অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক গাজী আইয়ুবের নেতৃত্বে সিবিএ নেতারা রুমে প্রবেশ করেই চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বারবার চেষ্টা করেও শান্ত করতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে দুর্ব্যবহার করতে থাকেন তারা।
নিলুফারিন আকতার বলেন, ‘হইহুল্লোড় শুনে আশপাশের কক্ষ থেকে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বের হয়ে আমার কক্ষে আসেন। সহকারী প্রকৌশলী মাহাদী হাসান সিবিএ নেতাদের শান্ত করতে চাইলে উল্টো তাকে কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। কক্ষের বাইরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ঘটনার পর সিবিএ নেতাদের এ রকম আচরণের ঘটনা লিখিতভাবে প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদকে জানাই।’
এ বিষয়ে সিবিএর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘লোক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ম্যাডামের সঙ্গে একটু সমস্যা হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের লোক নিয়োগ দিয়েছেন। এর প্রতিবাদ করেছেন তারা। এখন তাদের চার জনকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিদ্যুৎ ভবনের পঞ্চম তলার করিডরে উত্তেজিত শ্রমিক ও সিবিএ নেতাদের একটি দল জড়ো হয়ে হট্টগোল করছেন। একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। করিডরে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ অভিযোগ তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদফতরে পাঠানো হয়েছে। তারা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবি
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বিবৃতি দিয়েছে বিপিডিবি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. আসলাম উদ্দীন ও সদস্যসচিব এ কে এম মহিউদ্দিন আজমীর সই করা করা প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত ৯ জুন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের আওতাধীন কম্পিউটার কেন্দ্রে কর্তব্যরত অবস্থায় সহকারী প্রকৌশলী মাহাদী হাসান অত্যন্ত নির্মম ও ন্যক্কারজনকভাবে শারীরিক লাঞ্ছিত হয়েছেন। একজন পেশাদার প্রকৌশলী, যিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দেশেে অবকাঠামো ও উন্নয়নমূলক কাজে নিজের মেধা ও শ্রম দিচ্ছেন। তার ওপর এমন বর্বর হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং গোটা প্রকৌশলী সমাজ এবং আইনের শাসনের ওপর একটি চরম আঘাত। আমরা এই অনভিপ্রেত ও কাপুরুষোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছি। কর্মক্ষেত্রে একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা এবং কর্তব্যরত অবস্থায় তার গায়ে হাত তোলার মতো ধৃষ্টতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনা দেশের সকল কর্মজীবী প্রকৌশলীর মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং হতাশার সৃষ্টি হরেছে। এতে জড়িতদের গ্রেফতারসহ চারটি দাবি জানানো হয়।