শিশু আয়াত হত্যা: আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর হত্যা ও লাশ ছয় টুকরো করার ঘটনার মামলায় আসামি আবির আলীকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আবির আলী আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, বুধবার সকাল আবিরের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ করে স্থানীয় লোকজন। 

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আদালতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত আসামিকে এ নৃশংস ঘটনার জন্য মৃত্যু দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, একই রায়ে আদালত অভিযুক্ত আবিরকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়া নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে স্থানীয় লোকজন

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় পরিবার ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে ছায়া তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই জানায়, মুক্তিপণের জন্য আয়াতকে অপহরণ করেন আবির। তারপর আয়াতের বাবার কাছে টাকা দাবি করার পরিকল্পনা করে। সে জন্য একটি মোবাইলও কেনে। আর আগে রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি সিম তার সংগ্রহে ছিল। কিন্তু সেটা সচল না থাকায় ফোন করতে পারে না।

এ কারণে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় আয়াতকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। প্রমাণ লুকাতে লাশ কেটে ছয় টুকরো করে পতেঙ্গা এলাকার সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

ঘটনার ১৬ দিন পর আউটার রিঙ রোডের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন স্লুইচ গেটের এক গর্ত থেকে আয়াতের দুই পা এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পিবিআই। এ ঘটনায় আয়াতের বাবা নগরের ইপিজেড থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পিবিআই তদন্ত শেষে, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এতে মূল আসামি মো. আবির ও তার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয়। আইনগত কারণে ওই কিশোরের নাম প্রকাশ করা হয়নি। মূল আসামি আবির গ্রেফতারের পর থেকে কারাগারে রয়েছে।

রায়ের পর মামলার বাদী ও নিহত আয়াতের বাবা সোহেল রানা বলেন, ‘আমার মেয়েকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি চাইলেও একমাত্র সন্তানকে আর ফিরে পাবো না। আদালত তাকে যে শাস্তি দিয়েছে আমি এর দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।