মন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে ‘কটূক্তি’, ২০ দিন ধরে কারাগারে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পানিসম্পদমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতা আনোয়ার হোসেন ২০ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। গত ২০ দিনেও জামিন হয়নি তার। আগামীকাল রবিবার (২১ জুন) লক্ষ্মীপুর জজ আদালতে জামিন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

আনোয়ার হোসেন শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক। তিনি উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। গত ৩০ মে রাত ৮টার দিকে সোনাপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আনোয়ারকে আটক করে মারধরের পর পুলিশে সোপর্দ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরদিন ৩১ মে বিকালে আনোয়ারকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন বিক্ষোভ করেছিলেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে গত ২০ দিনেও জামিন হয়নি তার।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ৩১ মে দুপুরে রায়পুর থানায় মামলা করেন সোনাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন। সাইবার সুরক্ষা আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় করা মামলায় আনোয়ার হোসেনসহ আট জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আনোয়ারের দুই ভাই ইমন হোসেন ও রুবেল হোসেন এবং দীপু নামে আরও একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা চার জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আনোয়ার তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করেন। এসব ঘটনার কারণ জানতে চাইলে আনোয়ার ও তার সহযোগীরা বাদীসহ অন্যদের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে বাদীকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।

জাতীয় শ্রমিক শক্তির নেতা আনোয়ার হোসেন

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, সোনাপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ী বাজার এলাকায় এনে আনোয়ারকে পিটুনি দেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আহত আনোয়ারকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘রায়পুরের এমপি আবুল খায়ের ভূঁইয়ার গুন্ডা বাহিনী আমার ওপর হামলা করেছে। আপনার সবাই দেখছেন। এর বিচার হতে হবে।’

গ্রেফতারের পর তার রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে তা মঞ্জুর করা হয়নি। গত ৪ জুন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল হক জেলগেটে একদিন আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে জানান রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম।

এনসিপির লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্যসচিব আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘প্রায় এক হাজার লোক নিয়ে ওই দিন আনোয়ারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন তারা। এরপর তার নামে মামলা দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, তাই বলে এমন মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ২০ দিন ধরে জেলে রাখার ঘটনা ন্যক্কারজনক।’

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আব্দুল আহাদ শাকিল পাটোয়ারী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার এসআই মাহবুব আলম আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। এতে দণ্ডবিধি ও সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি আনোয়ারকে জেলগেটে একদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অপর আসামি ইমনকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিন দিলেও তা হারিয়ে যাওয়ায় তা দেখাতে পারেননি। তবে ইমন বিদেশ যেন যেতে না পারেন সেজন্য বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে তার মামলার কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।’